শীত আসে ধীরে, কিন্তু ছোট শিশুর শরীরে এর প্রভাব পড়ে খুব দ্রুত। নবজাতক নিজের শরীরের তাপ ধরে রাখতে পারে না, ত্বক সহজে শুকিয়ে ফেটে যায়, আর ঠান্ডা, ধুলা ও কুয়াশার কারণে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ে। আবার উল্টো দিকে, বেশি কাপড় পরালেও শিশুর ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রশ্নটা শুধু "কী পরাব" নয়, "কতটুকু পরাব, কীভাবে ঘুমাবে, কখন ডাক্তার দেখাব"। এই গাইডে পোশাক, ত্বক, গোসল, ঘুম, সর্দি-কাশি, খাওয়া ও ধুলাদূষণ থেকে সুরক্ষা, সাথে কোন লক্ষণ দেখলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যাবেন, সব একসাথে পাবেন।
এক নজরে উত্তর: প্রাপ্তবয়স্ক যা পরেন, শিশুকে তার চেয়ে মাত্র একটি বাড়তি পাতলা স্তর পরান। ঘাড় বা বুক ছুঁয়ে দেখুন, গরম ও শুকনো থাকলে ঠিক আছে, ঘেমে গেলে বেশি হয়েছে। এক বছরের নিচে ঘুমের সময় কম্বলের বদলে স্লিপিং ব্যাগ ব্যবহার করুন এবং বিছানায় হট ওয়াটার ব্যাগ রাখবেন না। গোসলের পর কয়েক মিনিটের মধ্যে ময়েশ্চারাইজার লাগান। আর দ্রুত শ্বাস, বুক ভেতরে ঢোকা, নীলচে ঠোঁট বা খেতে না পারলে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে যান।
শীতে শিশুর কী কী সমস্যা বেশি হয়?
শীতের মাসগুলোতে শিশু বিশেষজ্ঞের চেম্বারে কয়েকটা সমস্যা বেশি দেখা যায়। আগে থেকে জানা থাকলে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।
শুষ্ক ও ফাটা ত্বক
ঠান্ডা বাতাস ও কম আর্দ্রতায় ত্বক দ্রুত শুকায়। গাল, ঠোঁট, হাত-পা ও কনুই-হাঁটুতে সমস্যা বেশি হয়। দেখুন বেবি স্কিনকেয়ার।
সর্দি-কাশি ও শ্বাসের সংক্রমণ
ঠান্ডা লাগা, নাক বন্ধ, কাশি এবং ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও ব্রংকিওলাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে। দেখুন বেবি হেলথকেয়ার।
ডায়রিয়া
ঠান্ডা মাসগুলোতেও শিশুদের পাতলা পায়খানা কম হয় না। পানিশূন্যতা এড়াতে খাবার স্যালাইনের ব্যবস্থা হাতের কাছে রাখুন।
ধুলা ও দূষণজনিত অস্বস্তি
শীতে বাতাসে ধুলা ও দূষণ বাড়ে, বিশেষ করে শহরে। এতে কাশি, চোখ জ্বালা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। দেখুন হেলথ ও কমফোর্ট ডিভাইস।
শিশুর বিকাশ ও ওজনের ধারা নজরে রাখতে ব্যবহার করুন আমাদের বেবি গ্রোথ ট্র্যাকার ও মাইলস্টোন ট্র্যাকার। আর টিকার সময়সূচি ঠিক রাখুন এবং ছয় মাসের পর মৌসুমি ফ্লু টিকা নিয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
পোশাক: কতটুকু পরাবেন?
সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো "বড়দের চেয়ে একটি বাড়তি পাতলা স্তর"। মোটা একটা সোয়েটারের চেয়ে পাতলা কয়েক স্তর ভালো, কারণ গরম লাগলে একটা খুলে দেওয়া যায়। সবচেয়ে ভেতরে থাকুক নরম সুতির জামা, যা ত্বকের সাথে লেগে থাকে।
| পরিস্থিতি | কী পরাবেন | খেয়াল রাখুন |
|---|---|---|
| ঘরের ভেতরে (দিনে) | সুতির জামা ও হালকা সোয়েটার বা কার্ডিগান, প্রয়োজনে মোজা | ঘাম হলে একটা স্তর খুলে দিন। ঘরে টুপি না পরানোই ভালো |
| ভোর, সন্ধ্যা বা বাইরে | ভেতরে সুতির জামা, ওপরে সোয়েটার, তার ওপর জ্যাকেট বা হুডেড ব্ল্যাংকেট; টুপি, মিটেন ও মোজা | মাথা ও কান ঢাকুন। গাড়িতে বা ঘরে ঢুকে টুপি-জ্যাকেট খুলে ফেলুন |
| রাতে ঘুমের সময় | সুতির ঘুমের জামা ও স্লিপিং ব্যাগ (এক বছরের নিচে) | ঘুমের সময় টুপি নয়, মাথা ও মুখ খোলা রাখুন |
| কনকনে ঠান্ডার দিনে | একটি বাড়তি পাতলা স্তর, মোটা মোজা ও মিটেন | বারবার ঘাড় ও বুক ছুঁয়ে দেখুন। ঠান্ডা বা ঘামে ভেজা, দুটোই সংকেত |
শিশু ঠিক তাপমাত্রায় আছে কি না বুঝবেন কীভাবে?
- ঘাড় বা বুকে হাত দিন। গরম ও শুকনো হলে ঠিক আছে। ঘামে ভেজা হলে বেশি গরম, ঠান্ডা লাগলে আরেকটা স্তর দিন
- হাত-পা ঠান্ডা মানেই বিপদ নয়। নবজাতকের হাত-পা সাধারণত একটু ঠান্ডা থাকে, তাই বুক-পিঠ দেখে সিদ্ধান্ত নিন
- অতিরিক্ত গরমের লক্ষণ: মুখ লাল, ঘাম, ঘামাচি, অস্থিরতা বা দ্রুত শ্বাস
শীতের পোশাকে সতর্কতা
- নতুন সোয়েটার বা উলের জামা পরানোর আগে হালকা ডিটারজেন্টে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। উলের সরাসরি স্পর্শে অনেক শিশুর ত্বকে চুলকানি হয়, তাই ভেতরে সুতির স্তর রাখুন
- গলায় ফিতা বা ঢিলা সুতো থাকা পোশাক এড়ান
- মিটেন পরানোর আগে নখ ছেঁটে দিন এবং ভেতরে আলগা সুতো আছে কি না দেখুন, কারণ আঙুলে পেঁচিয়ে যেতে পারে
- কুয়াশার দিনে ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে কাপড় পরাবেন না। ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিন
- নবজাতককে গরম রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়গুলোর একটি মায়ের বুকের সাথে ত্বক-ত্বক স্পর্শ (ক্যাঙ্গারু কেয়ার)
- জামা ও জুতা
- নবজাতকের টুপি ও মিটেন
- নিউবর্ন কেয়ার কিট
- প্রিমি ও টাইনি প্রিমি
- হুডেড ব্ল্যাংকেট
- বেবি ব্ল্যাংকেট
- রিসিভিং ব্ল্যাংকেট
- সুতির সোয়াডল
- বেবি ইয়ার প্রোটেকশন
- বেবি ক্লথ হ্যাঙ্গার
- ক্লথ পিন ও ক্লিপ
ত্বকের যত্ন: ফাটা ও শুষ্ক ত্বক সামলাবেন যেভাবে
শীতে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ করাই সবচেয়ে কার্যকর যত্ন। সুগন্ধি ও অ্যালকোহলমুক্ত, শিশুর জন্য তৈরি পণ্য বেছে নিন।
| সমস্যা | সাধারণ কারণ | কী করবেন |
|---|---|---|
| গাল ও ঠোঁট ফেটে যাওয়া | ঠান্ডা বাতাস, লালা ও বারবার মোছা | খাওয়ার পর নরম কাপড়ে চেপে মুছুন, ঘষবেন না। মুখে হালকা ক্রিম বা ব্যারিয়ার ক্রিম দিন |
| শরীরে খসখসে শুকনো দাগ | গরম পানিতে গোসল, সাবানের আধিক্য | কুসুম গরম পানি, মৃদু বডি ওয়াশ ও গোসলের পর কয়েক মিনিটের মধ্যে ক্রিম বা লোশন |
| চুলকানি ও লালচে ভাব | শুষ্কতা, ধুলা, উলের কাপড় | সুতির কাপড়, সুগন্ধিমুক্ত ক্রিম। কয়েকদিনে না কমলে বা ঘা হয়ে গেলে চিকিৎসক দেখান |
| হাত-পা ফাটা | ঠান্ডা ও ঘন ঘন ভেজা | হাত ও পায়ের জন্য ক্রিম, রাতে সুতির মোজা |
| ডায়াপার এলাকায় র্যাশ | ভেজা ডায়াপার, ঠান্ডায় বদলাতে দেরি | ঘন ঘন বদলান, শুকনো রেখে র্যাশ ক্রিম দিন |
- বেবি লোশন ও ময়েশ্চারাইজার
- বেবি স্কিন ক্রিম
- বেবি ফেস কেয়ার
- সেনসিটিভ স্কিন কেয়ার
- বেবি স্কিনকেয়ার সেট
- বেবি বডি অয়েল
- র্যাশ কেয়ার
- ডায়াপার র্যাশ ক্রিম
- Sebamed Baby Extra Soft Cream ২০০ মি.লি.
- Sebamed Baby Extra Soft Cream ৫০ মি.লি.
- Sebamed Baby Protective Facial Cream
- Sebamed Protective Facial Cream ১০০ মি.লি.
- বেবি সান কেয়ার
তেল মালিশ নিয়ে সতর্কতা
আমাদের দেশে শীতে শিশুকে তেল মালিশ করার চলন অনেক পুরনো। মালিশ শিশুকে আরাম দেয় এবং মা-শিশুর বন্ধন গড়ে তোলে, তবে তেল বাছাইয়ে সতর্ক থাকুন। কিছু গবেষণায় সরিষার তেল নবজাতকের কোমল ত্বকে জ্বালা ও ত্বকের সুরক্ষাস্তরের ক্ষতির ইঙ্গিত দিয়েছে। তাই ছোট শিশুর ক্ষেত্রে কোন তেল ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। নতুন তেল সারা শরীরে লাগানোর আগে হাতের ছোট জায়গায় লাগিয়ে দেখে নিন। আর মালিশের সময় ঘর যেন গরম থাকে এবং মালিশের পর তেল মুছে অল্প সময়ে গোসল সেরে নিন।
ছোট টিপস: শিশুর মুখের কাছে বেবি পাউডার ঝাড়বেন না। এর কণা শ্বাসের সাথে ভেতরে যেতে পারে। দরকার হলে হাতে নিয়ে শরীরের নিচের অংশে লাগান। বেবি পাউডার ও পাউডার পাফ দেখুন।
শীতে গোসলের নিয়ম
শীত মানেই গোসল বন্ধ নয়, তবে সময় ও পদ্ধতি বদলাতে হবে।
- সময় বেছে নিন। দিনের সবচেয়ে গরম সময়, সাধারণত দুপুরের আগে বা পরে গোসল করান।
- ঘর আগে গরম রাখুন। বন্ধ, বাতাসহীন ঘরে গোসল করান, কিন্তু দম বন্ধ হয় এমন নয়।
- সবকিছু হাতের কাছে রাখুন। তোয়ালে, জামা, ডায়াপার ও ক্রিম আগে গুছিয়ে নিন, যাতে গোসলের পর দেরি না হয়।
- কুসুম গরম পানি। কনুই বা থার্মোমিটার দিয়ে পানির তাপ দেখুন। গরম পানি ত্বক আরও শুকিয়ে দেয়।
- দ্রুত ও কোমলভাবে। পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে শেষ করুন।
- সাথে সাথে মুড়িয়ে নিন। হুডেড তোয়ালে বা বাথ রোবে জড়িয়ে ধীরে চেপে মুছুন, ঘষবেন না।
- কয়েক মিনিটের মধ্যে ময়েশ্চারাইজ করুন। ত্বক ভেজা থাকতেই ক্রিম বা লোশন দিলে আর্দ্রতা আটকে থাকে।
নবজাতকের নাভির দাগ শুকানো পর্যন্ত গোসলের নিয়ম চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন। একান্ত ঠান্ডার দিনে প্রতিদিন গোসল না করিয়ে নরম ভেজা কাপড়ে গা মুছে দেওয়াও চলে।
- বেবি বাথ টাব
- বাথার ও সিট
- বেবি বডি ওয়াশ
- বেবি সাবান
- বেবি শ্যাম্পু
- বেবি কন্ডিশনার
- বেবি হেয়ার অয়েল
- বেবি হেয়ার কেয়ার সেট
- হুডেড তোয়ালে
- বেবি বাথ টাওয়েল
- বাথ রোব
- মসলিন ওয়াশ ক্লথ
- বাথ মিটেন
- শাওয়ার ক্যাপ ও মগ
- বেবি গ্রুমিং কিট
- নেইল ক্লিপার ও কাঁচি
নিরাপদ ঘুম ও বিছানা
শীতে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় ঘুমের সময়। শিশুকে গরম রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত কাপড়, কম্বল বা বালিশ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। মনে রাখুন, গরম থাকা আর অতিরিক্ত গরম হওয়া এক নয়।
- এক বছরের নিচে: ঢিলা কম্বলের বদলে স্লিপিং ব্যাগ ভালো, কারণ এটা মুখ ঢেকে ফেলে না
- বালিশ, বাম্পার ও নরম খেলনা: প্রথম এক বছর বিছানায় রাখবেন না
- চিত করে শোয়ান, শক্ত ও সমতল বিছানায়, ফিটেড চাদরসহ
- ঘুমের সময় টুপি নয়, মাথা ও মুখ খোলা রাখুন যাতে অতিরিক্ত গরম না হয়
- এক বছরের পর: হালকা কম্বল বা কমফোর্টার দেওয়া যায়, তবে মুখ ঢাকা যেন না পড়ে
- মশারি টানুন। শীতেও মশা থাকে, আর মশারি বাড়তি হালকা আবরণও দেয়
- বেবি ব্ল্যাংকেট ও স্লিপ
- বেবি স্লিপিং ব্যাগ
- বেবি কমফোর্টার
- বেবি বেডিং সেট
- কট বেডিং
- ক্রিব শিট
- সেফটি বেডিং
- বেবি পিলো ও কভার (এক বছরের পর)
- সোয়াডল র্যাপ
- মসলিন সোয়াডল
- বেবি মশারি
- বেড গার্ড ও রেইল
- বেবি মনিটর
হিটার ও হট ওয়াটার ব্যাগের সতর্কতা
পোড়া ও বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি: শিশুর ঘর গরম রাখতে গিয়ে অনেক সময় বিপদ ডেকে আনা হয়। নিচের নিয়মগুলো মেনে চলুন।
- হট ওয়াটার ব্যাগ শিশুর বিছানায় রাখবেন না। ঘুমন্ত শিশুর ত্বক পুড়ে যেতে পারে। সম্ভব হলে বিছানা আগে ঝাঁকিয়ে গরম করে ব্যাগ সরিয়ে তারপর শিশুকে শোয়ান। ব্যাগ ব্যবহার করলে পানি ফুটন্ত না হয়ে সহনীয় গরম হোক, আর মোটা কাপড়ে মুড়িয়ে নিন
- বন্ধ ঘরে কয়লা, কাঠ বা গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে ঘুমাবেন না। এতে কার্বন মনোক্সাইড জমে প্রাণঘাতী হতে পারে
- ইলেকট্রিক হিটার বা ব্লোয়ার শিশুর কাছে নয়। সরাসরি গরম বাতাস ত্বক ও শ্বাসনালীকে শুকিয়ে দেয়, আগুন ও পোড়ার ঝুঁকিও আছে। ব্যবহার করলেও শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন এবং ঘুমানোর সময় বন্ধ করুন
- ধোঁয়া এড়ান। ধূপ, কয়েল, আগরবাতি বা কাঠের চুলার ধোঁয়া শিশুর কাশি বাড়ায়
- ঘর গরম রাখার সহজ উপায়: দিনে রোদ আসতে দিন, রাতে জানালা-দরজার ফাঁক বন্ধ রাখুন, তবে সামান্য বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন
- হট ওয়াটার ব্যাগ
- হেলথ ও কমফোর্ট ডিভাইস
- চাইল্ড সেফটি
- সেফটি লক ও সকেট কভার
- কর্নার ও এজ গার্ড
- ডোর গার্ড ও স্টপার
সর্দি-কাশিতে ঘরে করণীয়
সাধারণ ঠান্ডা লাগা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কয়েকদিনে নিজে নিজে সেরে যায়। ঘরে শিশুকে আরাম দেওয়ার কিছু নিরাপদ উপায়:
- বারবার খাওয়ান। বুকের দুধ বা ফর্মুলা, আর ছয় মাসের বেশি হলে অল্প অল্প পানি। শরীরে তরল থাকলে শ্লেষ্মা পাতলা থাকে
- নাক পরিষ্কার রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শে লবণ-পানির ড্রপ দিয়ে নরমভাবে নেজাল অ্যাসপিরেটর ব্যবহার করুন। জোরে বা ঘন ঘন টানলে নাকের ভেতর জ্বালা হয়
- ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা রাখুন। ঠান্ডা কুয়াশার (কুল মিস্ট) হিউমিডিফায়ার তুলনামূলক নিরাপদ। প্রতিদিন পানি বদলে পরিষ্কার করুন, নইলে জীবাণু জমে
- মাথা একটু উঁচু করে কোলে নিয়ে খাওয়ালে শ্বাসে সুবিধা হয়। তবে ঘুমানোর সময় বালিশ দিয়ে মাথা উঁচু করবেন না
- বিশ্রাম দিন এবং অন্য অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ কমান। শিশুকে ধরার আগে হাত ধুয়ে নিন
যা করবেন না: এক বছরের নিচে মধু দেবেন না। দুই বছরের নিচে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কাশির সিরাপ বা ওষুধ দেবেন না। গরম পানির ভাপ নেওয়াবেন না, পোড়ার ঝুঁকি বেশি। মেন্থল বা কর্পূরযুক্ত মলম ছোট শিশুর নাকের কাছে লাগাবেন না। আর জ্বরের ওষুধের ডোজ সবসময় ওজন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দিন।
- নেজাল অ্যাসপিরেটর
- কোল্ড রিলিফ ও ইনহেলার
- হিউমিডিফায়ার
- ভ্যাপোরাইজার ও নেবুলাইজার
- বেবি থার্মোমিটার
- মেডিসিন ড্রপার ও চামচ
- বেবি ভিটামিন ও ওয়েলনেস
- বেবি ওয়াইপস
বিপদ-চিহ্ন: কখন সাথে সাথে ডাক্তার?
সব সর্দি-কাশি সাধারণ নয়। ছোট শিশুর ক্ষেত্রে কিছু লক্ষণ দেখলে অপেক্ষা না করে সরাসরি চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে যান। নিচের তালিকাটি প্রচলিত শিশু স্বাস্থ্য নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ ধারণা দেয়।
| লক্ষণ | কী দেখবেন | করণীয় |
|---|---|---|
| দ্রুত শ্বাস | শিশু শান্ত থাকা অবস্থায় এক পুরো মিনিট শ্বাস গুনুন। দুই মাসের কম বয়সে মিনিটে ৬০ বা বেশি, দুই থেকে এগারো মাসে ৫০ বা বেশি, এক থেকে পাঁচ বছরে ৪০ বা বেশি | নিউমোনিয়ার সম্ভাব্য লক্ষণ, সাথে সাথে চিকিৎসক দেখান |
| বুক ভেতরে ঢুকে যাওয়া | শ্বাসের সময় বুকের নিচের অংশ ভেতরের দিকে বসে যায়, নাকের পাটা ফোলে, ঘড়ঘড় বা গোঙানির শব্দ হয় | জরুরি, দেরি করবেন না |
| ঠোঁট বা মুখ নীলচে | ঠোঁট, জিব বা মুখের চারপাশ নীল বা ফ্যাকাসে | তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিন |
| তিন মাসের কম বয়সে জ্বর | শরীরের তাপ ৩৮°C (১০০.৪°F) বা বেশি | যেকোনো জ্বরই জরুরি, ঘরে ওষুধ দিয়ে অপেক্ষা করবেন না |
| খেতে না পারা, অস্বাভাবিক ঝিমানো | বুকের দুধ বা খাবার নিচ্ছে না, ডাকলেও সাড়া কম, অস্বাভাবিক নিস্তেজ | দ্রুত চিকিৎসক দেখান |
| পানিশূন্যতা | ছয় থেকে আট ঘণ্টা প্রস্রাব নেই, মুখ ও ঠোঁট শুকনো, কান্নায় পানি নেই, মাথার নরম জায়গা বসে গেছে | ডায়রিয়া বা বমির সাথে হলে খাবার স্যালাইন দিতে থাকুন ও দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান |
| খিঁচুনি | শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া বা ঝাঁকুনি, জ্ঞান হারানো | সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা |
এই তালিকা সব লক্ষণ ধরে না। আপনার মনে হলে "কিছু একটা ঠিক নেই", তখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
জরুরি অবস্থার জন্য আগে থেকে ঠিক রাখুন: শিশু বিশেষজ্ঞ বা নিকটস্থ হাসপাতালের নম্বর ফোনে সেভ রাখুন, শিশুর ওজন ও টিকার কার্ড এক জায়গায় রাখুন, আর থার্মোমিটার ও খাবার স্যালাইন ঘরে মজুত রাখুন।
ধুলা ও বায়ুদূষণ থেকে সুরক্ষা
শীতকালে বিশেষ করে ঢাকাসহ বড় শহরে বাতাসের মান খারাপ থাকে, আর বাতাসে ধুলা ও সূক্ষ্ম কণা শিশুর শ্বাসনালীর জন্য ক্ষতিকর। ছোট ছোট অভ্যাসে ঝুঁকি কমানো যায়।
- বাতাসের মান ভালো না থাকলে ভোর ও সন্ধ্যায় শিশুকে অকারণে বাইরে নেবেন না
- দূষণের দিনে জানালা বন্ধ রেখে ঘরে কাজ করুন, আর বাতাস কিছুটা পরিষ্কার হলে একটু খুলে দিন
- ঘর ঝাড়ু না দিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছুন, ধুলা কম ওড়ে
- দুই বছরের নিচে শিশুকে মাস্ক পরাবেন না, কারণ শ্বাসরোধের ঝুঁকি থাকে। বড় শিশু ও বড়দের জন্য ঠিক মাপের মাস্ক ভালো
- বাইরে থেকে ফিরে শিশুকে ধরার আগে নিজের হাত-মুখ ধুয়ে নিন এবং জামা বদলান
- বাড়ির আশেপাশে ময়লা বা আবর্জনা পোড়ানো থেকে বিরত থাকুন
- হাঁপানি বা অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে আগেভাগে প্রস্তুতি নিন
- এয়ার পিউরিফায়ার
- হিউমিডিফায়ার
- বেবি প্রোটেকটিভ গিয়ার
- বেবি ইয়ার প্রোটেকশন
- প্রোটেকটিভ সেফটি অ্যাক্সেসরিজ
- বেবি ওয়াইপস
রোদ ও ভিটামিন ডি
শীতের নরম রোদ শিশুর জন্য ভালো, কিন্তু সময় ও পরিমাণ ঠিক রাখা জরুরি। সকালের মৃদু রোদে ছোট সময়ের জন্য শিশুকে নিয়ে বসা যায়, তবে নবজাতকের ত্বক খুব সংবেদনশীল, তাই সরাসরি তীব্র রোদ এড়ান।
- অনেক শিশু বিশেষজ্ঞ বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের জন্য ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টের পরামর্শ দেন। দেবেন কি না এবং কত, তা চিকিৎসক ঠিক করবেন, নিজে থেকে শুরু করবেন না
- রোদে বসানোর সময় শিশুর চোখ সরাসরি রোদের দিকে না থাকে, তা খেয়াল রাখুন
- ছয় মাসের পর বাইরে বেশিক্ষণ থাকলে সানস্ক্রিন নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
খাওয়া ও পানি
শীতে অনেকে মনে করেন শিশুর পানি লাগে না, কিন্তু তরলের প্রয়োজন সারা বছরই থাকে। বুকের দুধ খাওয়া শিশুকে একটু ঘন ঘন খাওয়ান, কারণ ঠান্ডায় শরীর গরম রাখতে বাড়তি শক্তি লাগে।
- ছয় মাসের পর: খাবার কুসুম গরম বা হালকা গরম পরিবেশন করুন, তবে মুখ পুড়ে যায় এমন গরম নয়
- শীতের সবজি: গাজর, মিষ্টি কুমড়া ও পালংশাক সেদ্ধ করে নরম বা চটকে দিতে পারেন, সুবিধামতো মেনুতে রাখুন
- পানি: ছয় মাসের পর সলিড খাবারের সাথে অল্প অল্প কুসুম গরম পানি দিন
- ডায়রিয়া হলে: খাবার স্যালাইন (ওআরএস) দিন, বুকের দুধ বা স্বাভাবিক খাবার বন্ধ করবেন না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
- পরিচ্ছন্নতা: খাওয়ানোর আগে হাত ধুয়ে নিন এবং বোতল ও বাসন জীবাণুমুক্ত রাখুন
- বেবি ফুড
- বেবি সিরিয়াল ও ওটস
- পরিজ ও কাস্টার্ড
- অর্গানিক ও সুপারফুডস
- বেবি ফিডিং সেট
- বাটি ও প্লেট
- থার্মোস ও ভ্যাকুয়াম ফ্লাস্ক
- বোতল ওয়ার্মার ও ইনসুলেটর
- ফিডিং বোতল
- বোতল স্টেরিলাইজার
- ইনফ্যান্ট ফর্মুলা
- ম্যানুয়াল ব্রেস্ট পাম্প
- ইলেকট্রিক ব্রেস্ট পাম্প
- মিল্ক স্টোরেজ ও কুলার ব্যাগ
- সিপি কাপ
- বেবি মগ ও কাপ
খাওয়ানোর বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের পুষ্টি ও খাওয়ানোর গাইড।
টডলার ও স্কুলগামী শিশু
শীতের সকালে ঠান্ডার মধ্যে স্কুলে যাওয়া ছোটদের জন্য একটু কঠিন। একটু গুছিয়ে নিলে সর্দি-কাশি অনেক কমানো যায়।
- স্তর করে পরান: সকালে বেরোনোর সময় সোয়েটার, জ্যাকেট ও টুপি, ক্লাসে ঢুকে প্রয়োজনে খুলে ফেলার ব্যবস্থা রাখুন
- গরম টিফিন ও পানি: থার্মোস ফ্লাস্কে কুসুম গরম পানি বা দুধ ও ঢাকনাওয়ালা টিফিন বক্সে সতেজ খাবার দিন
- হাত ধোয়ার অভ্যাস: স্কুল থেকে ফিরে ও খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সংক্রমণ কমায়
- অসুস্থ হলে বাড়িতে রাখুন: জ্বর বা তীব্র কাশি থাকলে স্কুলে পাঠাবেন না, এতে অন্য শিশুরাও সুরক্ষিত থাকে
- ঘরে ঢুকলে জুতা-মোজা খুলুন, আর ঠান্ডা মেঝেতে খালি পায়ে হাঁটতে দেবেন না
- স্কুল ব্যাগ
- টিফিন ও লাঞ্চ বক্স
- পানির বোতল
- স্কুল এসেনশিয়ালস
- বেবি টুথব্রাশ
- বেবি টুথপেস্ট
- হাত ও পায়ের যত্ন
- হাঁটু ও কনুই প্রোটেকশন
- সেফটি হেলমেট
ঠান্ডার দিনে ঘরে খেলার আইডিয়া
কুয়াশা আর দূষণের দিনে বাইরে না গিয়েও শিশুকে সক্রিয় ও আনন্দে রাখা যায়। বয়স অনুযায়ী কিছু খেলা:
০ থেকে ১২ মাস
- পেটের ওপর শোয়ানোর সময় (টামি টাইম), নজরদারিতে
- রঙিন র্যাটল ও নরম খেলনা ধরা
- গান ও ছড়া শোনানো
- র্যাটল ও ঝুনঝুনি
- ক্রিব ও স্ট্রলার খেলনা
- সেন্সরি খেলনা
১ থেকে ২ বছর
- ব্লক সাজানো ও ভেঙে ফেলা
- লুকোচুরি ও ছোট ছোট নির্দেশ মানার খেলা
- নরম বল ছোড়া
- স্ট্যাকিং খেলনা
- বিল্ডিং ব্লক
- মিউজিক্যাল খেলনা
- পুশ ও পুল ভেহিকল
৩ থেকে ৫ বছর
- ছবি আঁকা, রং করা ও মাটি দিয়ে খেলা
- পাজল ও মেমরি গেম
- তাঁবু বানিয়ে গল্পের আসর
- পাজল
- ম্যাচিং ও মেমরি গেম
- প্লে টেন্ট
- কালারিং বই
- ক্লে ও মডেলিং
৬ বছর ও তার বেশি
- বোর্ড গেম ও পরিবারের সবার সাথে খেলা
- বিজ্ঞান ও ক্রাফট প্রজেক্ট
- বই পড়া ও গল্প লেখা
- বোর্ড গেমস
- STEM ও সায়েন্স
- আর্ট ও ক্রাফট সেট
- গল্পের বই
- অ্যাক্টিভিটি বই
লম্বা শীতের সন্ধ্যায় ঘুমের আগে একসাথে গল্প শোনার জন্য দেখুন ঘুমের গল্প, ইসলামিক গল্প ও দোয়া ও আযকার। শিশুদের স্ক্রিন টাইম সামলাতে পারেন ডিজিটাল প্যারেন্টিং ও স্ক্রিন টাইম বইগুলোর সাহায্যে।
মায়ের যত্ন: শীতে নিজের দিকেও খেয়াল রাখুন
নতুন মা ও গর্ভবতী মায়েদের শীতে ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফাটা ও জয়েন্টে ব্যথা বেশি হতে পারে। আর বুকের দুধ খাওয়ালে শরীরের পানি ও পুষ্টির চাহিদা আরও বাড়ে।
- নিয়মিত পানি ও সুষম খাবার খান, বিশেষ করে বুকের দুধ খাওয়ালে
- ঠান্ডা লাগলে ওষুধ নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, কারণ সব ওষুধ বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ নয়
- প্রসবের পরের সময়ে ঘর গরম রাখুন, মাথা ও পা ঢেকে রাখুন এবং বিশ্রামে অবহেলা করবেন না
- ঠোঁট, হাত ও পায়ের নিয়মিত যত্ন নিন
- মায়ের নিজের ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে নিন
- মম স্কিনকেয়ার
- আই, লিপ ও সানকেয়ার
- হাত ও পায়ের যত্ন
- ফেস ও বডি অয়েল
- ময়েশ্চারাইজার ও সিরাম
- স্ট্রেচ মার্ক কেয়ার
- প্রসব-পরবর্তী যত্ন
- রিকভারি এসেনশিয়ালস
- নিউট্রিশন ও ওয়েলনেস
- মম ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট
- ম্যাটার্নিটি ড্রেস ও টপস
- ম্যাটার্নিটি পিলো
- টোট ও শোল্ডার ব্যাগ
বয়স অনুযায়ী শীতের শপিং চেকলিস্ট
সবকিছু একসাথে কিনতে হবে না। প্রয়োজন বুঝে আগে জরুরি জিনিসগুলো কিনুন।
নবজাতক (০ থেকে ৩ মাস)
৩ থেকে ১২ মাস
১ থেকে ৩ বছর
নিজের তালিকা বানাতে চাইলে ব্যবহার করুন বেবি শপিং চেকলিস্ট। বাসা থেকে বের হওয়ার জন্য ডায়াপার ব্যাগ ও বেবি গিয়ার এবং হোম ও ট্রাভেল কালেকশনও দেখতে পারেন।
৫টি সাধারণ ভুল, যা এড়িয়ে চলবেন
- অতিরিক্ত কাপড় পরানো। ঘামলে শিশু ঠান্ডা লেগে যেতে পারে, আবার অতিরিক্ত গরম নিজেই ঝুঁকি। ঘাড় ও বুক ছুঁয়ে দেখুন।
- ঘুমের সময় টুপি ও ভারী কম্বল। এতে মুখ ঢেকে যাওয়া ও অতিরিক্ত গরমের ঝুঁকি বাড়ে। স্লিপিং ব্যাগ ব্যবহার করুন।
- গরম পানিতে গোসল। আরাম লাগলেও ত্বক আরও শুকিয়ে যায়। কুসুম গরম পানি ও গোসলের পর ময়েশ্চারাইজার।
- বন্ধ ঘরে চুলা বা হিটার জ্বালিয়ে ঘুমানো। কার্বন মনোক্সাইড ও আগুনের ঝুঁকি সবচেয়ে মারাত্মক। কখনোই নয়।
- সাধারণ সর্দি ভেবে বিপদ-চিহ্ন উপেক্ষা করা। দ্রুত শ্বাস, বুক ঢোকা, খেতে না পারা বা নীলচে ঠোঁট দেখলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের কাছে যান।
সব এক নজরে: কোন প্রয়োজনে কোথায় দেখবেন
- নিউবর্ন ও নার্সারি
- বেবি ব্ল্যাংকেট ও স্লিপ
- সোয়াডল ও রিসিভিং
- নিউবর্ন এসেনশিয়ালস
- বেবি টাওয়েল ও ওয়াশ ক্লথ
- বাথ ও স্কিন
- বেবি স্কিনকেয়ার
- বেবি ফিডিং
- মিল্ক ও ফর্মুলা
- ডায়াপারিং ও পটি
- হেলথ ও সেফটি
- বেবি হেলথকেয়ার
- মশা থেকে সুরক্ষা
- টয়েজ ও অ্যাক্টিভিটি
- বই
- লার্নিং ও স্টেশনারি
- মম কেয়ার
- বেবি গিয়ার
- জামা ও জুতা
- হোম ও ট্রাভেল
আরও পড়ুন ও কাজের টুল
- নবজাতকের যত্ন
- শিশুর বিকাশ ও দক্ষতা
- পুষ্টি ও খাওয়ানোর গাইড
- প্যারেন্টিং গাইড
- গর্ভাবস্থা ও মাতৃত্ব
- গ্রোথ ট্র্যাকার
- মাইলস্টোন ট্র্যাকার
- বেবি শপিং চেকলিস্ট
- প্যারেন্টিং কুইজ
- হেল্প সেন্টার ও FAQ
- ডেলিভারি ও শিপিং
- রিটার্ন ও রিফান্ড
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
শীতে নবজাতককে কতটা কাপড় পরানো উচিত?
সাধারণ নিয়ম হলো প্রাপ্তবয়স্ক যা পরেন তার চেয়ে একটি বাড়তি পাতলা স্তর। ভেতরে সুতির জামা, ওপরে সোয়েটার বা জ্যাকেট। ঘাড় বা বুক ছুঁয়ে দেখুন, গরম ও শুকনো থাকলে ঠিক আছে, ঘামলে একটা স্তর কমান।
শীতে বাচ্চাকে রোজ গোসল করানো কি দরকার?
প্রতিদিন গোসল জরুরি নয়। বেশি ঠান্ডার দিনে ভেজা নরম কাপড়ে গা মুছে দেওয়াও চলে। গোসল করালে কুসুম গরম পানি, দ্রুত সময় ও গোসলের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
শীতে বাচ্চার ঠোঁট ও গাল ফাটলে কী করব?
খাওয়া বা লালার পর নরম কাপড়ে চেপে মুছুন, ঘষবেন না। শিশুর জন্য তৈরি সুগন্ধিমুক্ত ক্রিম বা ব্যারিয়ার ক্রিম দিন। কয়েকদিনে না কমলে, লালচে হয়ে ঘা হলে বা রক্ত বের হলে চিকিৎসক দেখান।
বাচ্চা কি শীতে কম্বল গায়ে ঘুমাতে পারে?
এক বছরের নিচে ঢিলা কম্বল এড়ানো ভালো, কারণ মুখ ঢাকা পড়ার ও অতিরিক্ত গরমের ঝুঁকি থাকে। স্লিপিং ব্যাগ নিরাপদ বিকল্প। এক বছরের পর হালকা কম্বল বা কমফোর্টার দেওয়া যায়, তবে মুখ ও মাথা ঢাকা যেন না পড়ে।
বাচ্চার সর্দি-কাশি হলে কখন ডাক্তারের কাছে যাব?
দ্রুত শ্বাস, বুক ভেতরে ঢোকা, ঠোঁট নীলচে হওয়া, খেতে না পারা, অস্বাভাবিক ঝিমানো বা তিন মাসের কম বয়সে জ্বর দেখলে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে যান। সাধারণ সর্দিও কয়েকদিনে না কমলে বা বেড়ে গেলে দেখিয়ে নিন।
শীতে বাচ্চার ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা কি ভালো?
ঠান্ডা কুয়াশার (কুল মিস্ট) হিউমিডিফায়ার শুকনো বাতাসে নাক ও গলার আরাম দিতে পারে। তবে প্রতিদিন পানি বদলে যন্ত্রটি পরিষ্কার না করলে জীবাণু জমতে পারে। গরম ভাপের যন্ত্র শিশুর নাগালে রাখবেন না, পোড়ার ঝুঁকি আছে।
বাচ্চাকে মাস্ক পরানো কি নিরাপদ?
দুই বছরের নিচে শিশুকে মাস্ক পরানো উচিত নয়, কারণ এতে শ্বাসরোধের ঝুঁকি থাকে। এই বয়সে দূষণের দিনে বাইরে নেওয়া কমানো ও ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
শীতে বাচ্চাকে ভিটামিন ডি দেওয়া উচিত কি?
অনেক শিশু বিশেষজ্ঞ বিশেষ করে বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টের পরামর্শ দেন। দেবেন কি না এবং ডোজ কত হবে, তা চিকিৎসক ঠিক করবেন, নিজে থেকে শুরু করবেন না।
শীতের জন্য বাচ্চার প্রয়োজনীয় সবকিছু এক জায়গায়
নিউবর্ন ও নার্সারি কালেকশন দেখুনবি.দ্র.: এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। শিশুর জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, ত্বকের সমস্যা বা কোনো ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট নিয়ে সিদ্ধান্তের আগে অবশ্যই আপনার শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। জরুরি লক্ষণ দেখলে দেরি না করে হাসপাতালে যান।