বর্ষা শেষ হলেও ডেঙ্গুর ভয় শেষ হয় না। বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষা থেকে শরৎ পর্যন্ত, এমনকি শীতের শুরুতেও অনেক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। মা-বাবাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা থাকে ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে: বাচ্চার জ্বর হলে এটা কি ডেঙ্গু? ঘরে কী করব? কখন হাসপাতালে নেব? আর মশা থেকে কীভাবে বাঁচাব? এই গাইডে সহজ ভাষায় সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন। প্রতিরোধ, লক্ষণ, ঘরে সেবা, বিপদ-চিহ্ন, গর্ভবতী মায়ের সতর্কতা এবং বাড়িতে কী কী গুছিয়ে রাখবেন, সবকিছু এক জায়গায়।
জরুরি কথা আগে: শিশুর জ্বর, বিশেষ করে ডেঙ্গুর মৌসুমে, নিজে নিজে সামলাতে যাবেন না। তিন মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর হলে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে যান। বড় শিশুর ক্ষেত্রেও জ্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় দিনেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, চিকিৎসার বিকল্প নয়।
এক নজরে উত্তর: ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার কামড়ে। এই মশা দিনের বেলা কামড়ায় এবং ঘরের আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। তাই সপ্তাহে একবার সব পানির পাত্র খালি করে ঘষে ধুয়ে ফেলুন, দিনের ঘুমেও মশারি ব্যবহার করুন, আর দুই মাসের কম বয়সী শিশুকে কোনো রিপেলেন্ট নয়, শুধু মশারি। ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। চিকিৎসা হলো বিশ্রাম, প্রচুর তরল ও চিকিৎসকের নজরদারি। জ্বরের জন্য শুধু প্যারাসিটামল (ডোজ চিকিৎসকের কথামতো), কখনো অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন নয়। আর জ্বর কমে যাওয়ার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সবচেয়ে সতর্ক থাকার সময়। তখন পেটে ব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, ঝিমানো বা দ্রুত শ্বাস দেখলে সাথে সাথে হাসপাতালে যান।
ডেঙ্গু কী ও কীভাবে ছড়ায়?
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর। সংক্রমিত স্ত্রী এডিস মশা কামড়ালে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢোকে। এই ভাইরাস চার ধরনের (DEN-1 থেকে DEN-4) হয়। এক ধরনে আক্রান্ত হলে সেই ধরনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা তৈরি হয়, কিন্তু অন্য ধরনের বিরুদ্ধে স্থায়ী সুরক্ষা থাকে না। তাই কারও দ্বিতীয়বারও ডেঙ্গু হতে পারে।
| বিষয় | এডিস মশার স্বভাব | আপনার করণীয় |
|---|---|---|
| কখন কামড়ায় | প্রধানত দিনের বেলায়, বিশেষ করে ভোর ও বিকেলে। ঘরের ভেতরেও কামড়ায় | দিনের ঘুমেও মশারি দিন। জানালা-দরজায় নেট লাগান |
| কোথায় ডিম পাড়ে | পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে, যেমন বালতি, ফুলের টব, ফ্রিজের ট্রে, ফেলে দেওয়া কৌটা ও টায়ার। এক বোতলের ঢাকনার পানিতেও জন্মাতে পারে | সপ্তাহে একবার সব পাত্র খালি করে ঘষে ধুয়ে ফেলুন |
| ডিমের সহনক্ষমতা | পাত্রের গায়ে আঠার মতো লেগে থাকে এবং শুকনো অবস্থাতেও অনেকদিন বেঁচে থাকতে পারে | শুধু পানি ফেললেই হবে না, পাত্রের গা ঘষে ধুতে হবে |
| কোথায় বিশ্রাম নেয় | ঘরের অন্ধকার ও ঠান্ডা কোণে, যেমন পর্দার পেছনে, খাটের নিচে ও আলমারির ভেতর | ঘরের কোণ পরিষ্কার ও আলো-বাতাসযুক্ত রাখুন |
| চেনার উপায় | গায়ে ও পায়ে সাদা-কালো ডোরা দাগ | এমন মশা দেখলে সতর্ক হোন, আশপাশে জমা পানি খুঁজুন |
ডেঙ্গু কি ছোঁয়াচে? সরাসরি ছোঁয়ায় বা একসাথে থাকলে ছড়ায় না। তবে জ্বরের সময় রোগীর রক্তে ভাইরাস থাকে। সেই সময় মশা রোগীকে কামড়ে অন্যকে কামড়ালে ছড়াতে পারে। তাই অসুস্থ ব্যক্তিকে মশারির ভেতরে রাখা খুব জরুরি।
শিশু ও মায়েরা কেন বেশি সতর্ক থাকবেন?
বেশিরভাগ মানুষ ঘরে বিশ্রাম নিয়ে সেরে ওঠেন। তবে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর হিসাবে আক্রান্তদের একটি ছোট অংশের শরীরে গুরুতর জটিলতা হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে। কিছু কারণে ছোটদের ও মায়েদের বাড়তি সতর্কতা দরকার।
নবজাতক ও ছোট শিশু
তারা কী কষ্ট হচ্ছে বলতে পারে না। অস্থিরতা, কম খাওয়া, ঝিমানো বা বারবার কান্না, এসবই তাদের "কথা"। এ কারণে লক্ষণ ধরা কঠিন, আর তরলের ঘাটতিও দ্রুত হয়।
স্কুলগামী শিশু
দিনের বেলা স্কুল, মাঠ ও কোচিংয়ে তারা বেশিক্ষণ বাইরে থাকে, ঠিক যে সময়ে এডিস মশা সবচেয়ে সক্রিয়।
যাদের আগে একবার ডেঙ্গু হয়েছে
ভিন্ন ধরনের ভাইরাসে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তাই জ্বর হলে একদম দেরি করবেন না।
গর্ভবতী মা
গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু হলে মা ও গর্ভের শিশু দুজনের জন্যই বিশেষ নজরদারি লাগে। এ অবস্থায় প্রথম থেকেই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি।
শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ও ওজনের ধারা জানা থাকলে অসুস্থতার সময় তুলনা করা সহজ হয়। এজন্য ব্যবহার করুন বেবি গ্রোথ ট্র্যাকার ও মাইলস্টোন ট্র্যাকার।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি: কেন এখনো সতর্ক থাকতে হবে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) হিসাব অনুযায়ী ২০২৪ সালে দেশে প্রায় ১ লাখ ১২১৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৫ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ২ হাজারের বেশি (১,০২,৮৬১ জন) এবং মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের। এই সংখ্যাগুলো বলে, ডেঙ্গু আমাদের দেশে আর মৌসুমি "ঝড়" নয়, প্রতি বছরের বাস্তবতা। ২০২৬ সালেও জুলাই থেকে আক্রান্ত ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে এবং শরতেও হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। সর্বশেষ সংখ্যা জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক ডেঙ্গু বুলেটিন দেখুন।
এর মানে বর্ষা শেষ হলেও বাসার পানির পাত্র আর বৃষ্টির জমে থাকা পানি নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শীত পুরোপুরি এলে মশা কমে, কিন্তু ততদিন পর্যন্ত ঝুঁকি থাকে।
ঘর থেকে মশার বাসা ভাঙুন: সাপ্তাহিক "শুকনো দিন"
ডেঙ্গু ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় মশার জন্মই বন্ধ করা। সপ্তাহে একটা নির্দিষ্ট দিন ঠিক করুন, যেমন প্রতি শুক্রবার, আর পরিবারের সবাই মিলে ১৫ মিনিটে নিচের জায়গাগুলো দেখে নিন। ঢাকনা ছাড়া পাত্রে এডিস ডিম পাড়ে, তাই সব পাত্র ঢেকে রাখুন।
| জায়গা | কী করবেন | কেন |
|---|---|---|
| ফ্রিজ ও এসির ট্রে | পানি ফেলে ঘষে মুছে দিন | নিয়মিত জমে থাকা পানি ডিম পাড়ার সহজ জায়গা |
| ফুলের টব, ফুলদানি ও মানি প্ল্যান্টের বোতল | পানি বদলে পাত্রের গা ঘষে ধুয়ে দিন। টবের নিচের প্লেটে পানি জমতে দেবেন না | ডিম পাত্রের গায়ে লেগে থাকে, শুধু পানি ফেললে যায় না |
| বালতি, ড্রাম, পানির জার | ঢাকনা দিন। ঢাকনা না থাকলে সপ্তাহে একবার খালি করে ঘষে ধুয়ে শুকাতে দিন | ঢাকা না থাকলে মশা সহজে ঢুকে ডিম পাড়ে |
| ছাদের পানির ট্যাংক | ঢাকনা শক্ত করে আটকান, ফাঁক থাকলে নেট বা জালি দিন | বড় ট্যাংকের ফাঁক দিয়ে মশা ঢোকে |
| ছাদ, বারান্দা ও উঠান | ফেলে রাখা কৌটা, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের কাপ, পুরোনো টায়ার ও ভাঙা পাত্র সরান। বৃষ্টির পানি জমতে দেবেন না | বৃষ্টির পর এসবেই মশার লার্ভা জন্মায় |
| নর্দমা ও বেসিনের নালি | আটকে থাকা ময়লা পরিষ্কার করুন, পানি জমে থাকলে সরান | আটকে থাকা পানি মশার প্রজননক্ষেত্র |
| শিশুর বাথ টাব ও খেলনার পাত্র | ব্যবহারের পর পানি ফেলে উপুড় করে রাখুন, খেলনা শুকিয়ে তুলে রাখুন | শিশুর জিনিসেও পানি জমে থাকতে পারে |
| ঘরের অন্ধকার কোণ | খাটের নিচ, আলমারির পাশ ও পর্দার পেছনে পরিষ্কার রাখুন, আলো-বাতাস ঢুকতে দিন | দিনে মশা এসব জায়গায় বিশ্রাম নেয় |
আশপাশের মানুষকে বলুন: আপনার বাসা পরিষ্কার হলেও পাশের খালি প্লট, ভবনের ছাদ বা স্কুলের মাঠে মশা জন্মালে ঝুঁকি থাকে। প্রতিবেশী, বাড়িওয়ালা ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান এবং সিটি কর্পোরেশনের হটলাইনে অভিযোগ করুন। পরিবারকে একসাথে করে পরিষ্কার অভিযানে নামলে ফল অনেক ভালো হয়।
কামড় থেকে সুরক্ষা: দিন-রাত দুই সময়েই
বাসা পরিষ্কার রাখার পরেও মশা আসতে পারে। তাই ব্যক্তিগত সুরক্ষা দরকার। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হলো শারীরিক প্রতিবন্ধক, যেমন মশারি, জালির জানালা ও ঢাকা পোশাক।
- দিনের ঘুমেও মশারি। বাচ্চা সকালে বা দুপুরে ঘুমালেও মশারি টানান। এডিস মশা দিনেই কামড়ায়।
- জানালা-দরজায় নেট। ছেঁড়া জালি মেরামত করুন। যেসব ঘরে বাচ্চা বেশিক্ষণ থাকে, সেখানে আগে করুন।
- ঢাকা পোশাক। ভোর ও বিকেলে হালকা রঙের, ঢিলা ফুলহাতা জামা ও পুরো প্যান্ট পরান। গরমে নরম সুতির কাপড় ভালো।
- স্ট্রলার ও ক্যারিয়ারে নেট। বাইরে নিলে শিশুর স্ট্রলার বা ক্যারিয়ার মশারি দিয়ে ঢেকে দিন।
- বাইরে যাওয়ার সময় বুঝে। ভোর ও বিকেলে মশা বেশি থাকে। সম্ভব হলে তখন ঝোপঝাড় ও জমা পানির কাছে শিশুকে নেবেন না।
- ফ্যান ব্যবহার করুন। ঘরে ফ্যান চললে মশার জন্য কামড়ানো কঠিন হয়, তবে সরাসরি শিশুর গায়ে বাতাস লাগাবেন না।
- ধোঁয়া নয়। কয়েল, আগরবাতি ও ময়লা পোড়ানোর ধোঁয়া শিশুর শ্বাসের জন্য ক্ষতিকর, আর এতে ডেঙ্গুর মশা দমন হয় না।
- বেবি মশারি
- মশা থেকে সুরক্ষা
- মশা তাড়ানো রোল-অন
- রিপেলেন্ট ক্রিম ও জেল
- রিপেলেন্ট স্প্রে ও অয়েল
- রিপেলেন্ট ডিভাইস ও প্যাচ
- জামা ও জুতা (ফুলহাতা)
- সুতির সোয়াডল
- টুপি ও মিটেন
- নার্সারি এসেনশিয়ালস
একটি স্পষ্ট কথা: কোনো পণ্যই ডেঙ্গু প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয় না। মশারি, রিপেলেন্ট ও ঢাকা পোশাক শুধু কামড়ের ঝুঁকি কমায়। সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো মশার জন্ম আটকানো ও জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া।
বয়স অনুযায়ী রিপেলেন্টের নিয়ম
রিপেলেন্ট শিশুর জন্য সবসময় সমান নিরাপদ নয়। বয়স ও সক্রিয় উপাদান দেখে বেছে নিন। নিচের নিয়মগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি ও আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সের সাধারণ নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে লেখা।
| বয়স | রিপেলেন্ট | কী করবেন |
|---|---|---|
| দুই মাসের কম | কোনোভাবেই নয় | মশারি, স্ট্রলার ও ক্যারিয়ারে নেট, ঢাকা পোশাক ও জালিযুক্ত ঘর |
| ২ মাস থেকে ৩ বছর | লেবেল ও চিকিৎসকের পরামর্শে DEET (সর্বোচ্চ ৩০%), পিকারিডিন বা IR3535 | লেবেলে বয়সসীমা দেখুন। সবচেয়ে কম প্রয়োজনীয় মাত্রা বেছে নিন। লেবু-ইউক্যালিপটাস তেল (OLE) বা PMD এই বয়সে নয় |
| ৩ বছর ও তার বেশি | লেবেল অনুযায়ী উপরের উপাদানগুলো, এবং এই বয়স থেকে OLE/PMD ও ব্যবহার করা যায় | বড়রা প্রয়োগ করুন, শিশুকে নিজে লাগাতে দেবেন না |
| গর্ভবতী ও দুগ্ধদাত্রী মা | লেবেল মেনে ব্যবহার করলে সাধারণত নিরাপদ বলে ধরা হয় | চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিন, বিশেষ করে নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে |
শিশুর ত্বকে রিপেলেন্ট লাগানোর নিয়ম
- সবসময় বড়রা লাগাবেন। শিশুর হাতে, চোখে, মুখে বা কাটা-ছেঁড়া ও জ্বালা করা ত্বকে লাগাবেন না
- হাতে নিয়ে শিশুর খোলা ত্বকে মেখে দিন, সরাসরি মুখে স্প্রে করবেন না
- খোলা ও বাতাস চলাচলের জায়গায় স্প্রে করুন, বন্ধ ঘরে নয়
- ঘরে ঢুকে সাবান-পানিতে ধুয়ে ফেলুন
- প্যাকেটে সক্রিয় উপাদান ও শতাংশ লেখা না থাকলে ওই পণ্য শিশুর ত্বকে ব্যবহার করবেন না। শুধু "প্রাকৃতিক" লেখা দেখে বিশ্বাস করা ঠিক নয়
- প্যাচ, ব্রেসলেট বা ডিভাইসের ক্ষেত্রে লেবেলের নির্দেশ ও বয়সসীমা দেখুন, আর এগুলো মুখ বা হাতের কাছে রাখবেন না
কীটনাশক স্প্রে ও ফগিং: ঘরে কীটনাশক ছিটানোর সময় শিশু ও গর্ভবতী মা ঘরের বাইরে থাকুন, পরে ভালো করে বাতাস চলাচল করিয়ে ঢুকুন। শিশুর খাবার, বোতল, খেলনা ও বিছানা ঢেকে রাখুন। লেবেলের নির্দেশ মানুন।
ডেঙ্গুর লক্ষণ ও তিন ধাপ
ডেঙ্গুর লক্ষণ অন্যান্য ভাইরাসজ্বরের সাথে মিলে যায়, তাই শুধু লক্ষণ দেখে ঘরে নিশ্চিত হওয়া যায় না। চিকিৎসক পরীক্ষা করে বলবেন। ডেঙ্গুর অসুস্থতা সাধারণত তিন ধাপে এগোয়।
| ধাপ | কখন | কী দেখা যায় | কী করবেন |
|---|---|---|---|
| ১. জ্বরের ধাপ | সাধারণত ২ থেকে ৭ দিন | হঠাৎ উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, গা-হাত-পায়ে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ত্বকে লালচে র্যাশ। ছোটদের ক্ষেত্রে খিটখিটে ভাব, কম খাওয়া, ঝিমানো | চিকিৎসক দেখান, বিশ্রাম ও প্রচুর তরল দিন, মশারির ভেতরে রাখুন |
| ২. সংকটকালীন ধাপ | জ্বর কমে আসার সময়, সাধারণত অসুস্থতার ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে | জ্বর কমে গেলেও কারও কারও শরীরে রক্তরস বাইরে চুঁইয়ে যেতে শুরু করে। এই সময়ই বিপদ-চিহ্ন দেখা দিতে পারে | জ্বর কমেছে ভেবে নিশ্চিন্ত হবেন না। পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বিশেষ নজরে রাখুন, বিপদ-চিহ্ন দেখলে হাসপাতালে যান |
| ৩. সুস্থতার ধাপ | সংকটকাল পার হলে | ক্ষুধা ফেরে, প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়, কিছুদিন দুর্বলতা ও ক্লান্তি থাকে। অনেকের চুলকানি বা র্যাশ দেখা দেয় | বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফেরা |
ছোট শিশুর ক্ষেত্রে যা আলাদা
- নবজাতক ও ছোট শিশুদের অনেক সময় শুধু জ্বর, খাওয়া কমা ও অস্থিরতা বা ঝিমুনি দেখা যায়
- ডেঙ্গুর জ্বর সব শিশুর ক্ষেত্রে একই ধরনের হয় না। কখনো টানা উঁচু, কখনো ওঠানামা করে
- র্যাশ, বমি বা পেটে ব্যথা থাকলে চিকিৎসককে জানান, কারণ ডেঙ্গুর সাথে অন্য ভাইরাসজ্বরও একই রকম দেখাতে পারে
ঘরে সেবা: কী করবেন, কী করবেন না
ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট ভাইরাসনাশক ওষুধ নেই। চিকিৎসা মূলত সহায়ক, অর্থাৎ বিশ্রাম, তরল ও জ্বর-ব্যথা কমানো আর নজরদারি। তবে ঘরে সেবা চলবে কি না, তা চিকিৎসক ঠিক করবেন। কিছু শিশুকে প্রথম থেকেই হাসপাতালে রাখা দরকার হয়।
- আগে চিকিৎসক দেখান। শিশুর জ্বর হলে নিজে নিজে ওষুধ দিয়ে অপেক্ষা না করে শিশু বিশেষজ্ঞ বা নিকটস্থ হাসপাতালে যান। জ্বর কত দিনের ও কেমন তা বলার জন্য সময় লিখে রাখুন।
- পুরো বিশ্রামে রাখুন। শিশুকে কম দৌড়ঝাঁপ করতে দিন। স্কুল ও কোচিং বন্ধ রাখুন।
- মশারির ভেতরে রাখুন। জ্বরের সময় রক্তে ভাইরাস থাকে। অসুস্থ শিশুকে মশা কামড়ালে অন্যদের কাছে ছড়াতে পারে।
- বারবার তরল দিন। বুকের দুধ, ফর্মুলা, খাবার স্যালাইন (ORS), পানি, ভাতের মাড়, স্যুপ ও ফলের রস। একসাথে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে ঘন ঘন দিন।
- জ্বরে শুধু প্যারাসিটামল। ডোজ শিশুর ওজন ও বয়স অনুযায়ী ঠিক হয়। চিকিৎসকের কথা বা ওষুধের লেবেল অনুযায়ী দিন, নিজে আন্দাজে বাড়াবেন না।
- কুসুম গরম পানিতে গা মুছুন। জ্বর বেশি হলে নরম কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে গা মুছে দিন। বরফ বা খুব ঠান্ডা পানি নয়।
- রোজকার খাতা রাখুন। জ্বর, তরল, প্রস্রাব, বমি ও ওষুধের সময় লিখে রাখুন (নিচে ছক আছে)।
- জ্বর কমার পর আরও সতর্ক থাকুন। তখন বিপদ-চিহ্নের তালিকা মিলিয়ে দেখুন।
| করবেন | করবেন না |
|---|---|
| জ্বর ও ব্যথায় প্যারাসিটামল, চিকিৎসকের নির্দেশমতো ডোজ | অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা অন্যান্য NSAID ব্যথানাশক। এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শিশুদের ভাইরাসজ্বরে অ্যাসপিরিন নিষিদ্ধ |
| অনেক তরল, খাবার স্যালাইন ও বুকের দুধ | পানি কম খাওয়ানো বা "বমি হবে" ভেবে তরল বন্ধ করা |
| বিশ্রাম ও মশারির ভেতরে থাকা | জ্বর কমে গেছে ভেবে দৌড়ঝাঁপ বা স্কুলে পাঠানো |
| চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও ফলোআপ | নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড বা ইনজেকশন নেওয়া। ডেঙ্গুতে অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না, চিকিৎসক অন্য সংক্রমণ সন্দেহ করলে আলাদা কথা |
| অন্যান্য ওষুধের লেবেল পড়া | সর্দি-কাশির ওষুধ ও জ্বরের ওষুধ একসাথে দেওয়া। অনেক সর্দি-কাশির সিরাপে প্যারাসিটামল থাকে, এতে অতিরিক্ত ডোজ হয়ে যেতে পারে |
রোজকার খাতার ছক
খাতায় প্রতি কয়েক ঘণ্টা পর পর এসব লিখুন। হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকের জন্য এটা অনেক কাজে লাগবে।
| সময় | জ্বর | কী ও কতটা তরল খেল | প্রস্রাব বা ভেজা ডায়াপার | বমি বা অন্য সমস্যা | কোন ওষুধ ও কখন |
|---|---|---|---|---|---|
| সকাল ৮টা | যেমন ১০১°F | ORS ও বুকের দুধ | ১ বার | বমি হয়নি | লেবেল ও চিকিৎসকের কথামতো |
| দুপুর ১২টা | লিখুন | লিখুন | লিখুন | লিখুন | লিখুন |
- বেবি থার্মোমিটার
- মেডিসিন ড্রপার ও চামচ
- বেবি হেলথকেয়ার
- বেবি ওয়াইপস
- মসলিন ওয়াশ ক্লথ
- ওয়াশ ক্লথ
- নিউবর্ন ডায়াপার
- ডায়াপার প্যান্ট
- ইউরিন ম্যাট
- চেঞ্জিং ম্যাট
বিপদ-চিহ্ন: কখন সাথে সাথে হাসপাতালে যাবেন?
ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় অনেক সময় জ্বর কমে আসার পর। এই সময়ের লক্ষণগুলো আগে থেকে জেনে রাখুন। নিচের কোনো একটি দেখলেও দেরি না করে হাসপাতালে নিন, রাত হোক বা ভোর।
| লক্ষণ | কী দেখবেন | করণীয় |
|---|---|---|
| তীব্র পেটে ব্যথা | শিশু পেট চেপে কাঁদে, ছুঁতে দিতে চায় না, বা বারবার একই কথা বলে। ছোটদের ক্ষেত্রে হঠাৎ কান্না বেড়ে যাওয়া | সাথে সাথে হাসপাতালে নিন |
| বারবার বমি | কিছুই পেটে থাকছে না, তরলও না | দেরি না করে হাসপাতালে |
| রক্তপাত | নাক বা মাড়ি থেকে রক্ত, বমিতে রক্ত, কালো পায়খানা, গায়ে লাল দাগ বা কালশিটে, মেয়েদের অস্বাভাবিক রক্তস্রাব | জরুরি, সাথে সাথে হাসপাতালে |
| অস্বাভাবিক ঝিমানো বা অস্থিরতা | ডাকলে সাড়া কম, ঘুমঘুম ভাব, নেতিয়ে থাকা বা অতিরিক্ত অস্থির ও খিটখিটে | সাথে সাথে হাসপাতালে |
| ঠান্ডা, ফ্যাকাসে ও ঘামে ভেজা ত্বক | হাত-পা ঠান্ডা ও ভেজা, মুখ ফ্যাকাসে, নাড়ি দ্রুত ও দুর্বল | শকের লক্ষণ হতে পারে, জরুরি |
| দ্রুত বা কষ্টকর শ্বাস | শিশু দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে, বুক ভেতরে ঢুকছে বা হাঁপাচ্ছে | জরুরি, সাথে সাথে হাসপাতালে |
| প্রস্রাব কমে যাওয়া | ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্রাব নেই বা ভেজা ডায়াপার উল্লেখযোগ্য কমে গেছে, ঠোঁট-মুখ শুকনো, কান্নায় পানি নেই, মাথার নরম জায়গা (ফন্টানেল) বসে গেছে | পানিশূন্যতার লক্ষণ, দ্রুত চিকিৎসক |
| তিন মাসের কম বয়সে জ্বর | শরীরের তাপ ৩৮°C (১০০.৪°F) বা বেশি | যেকোনো জ্বরই জরুরি |
| খিঁচুনি বা অজ্ঞান | শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া, ঝাঁকুনি, জ্ঞান হারানো | সর্বোচ্চ জরুরি |
মনে রাখবেন: আপনার মনে যদি হয় "কিছু একটা ঠিক নেই", তাহলে দেরি করার চেয়ে হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানোই ভালো। মা-বাবার সহজাত অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। ডেঙ্গুর মৌসুমে শিশুর জ্বর হলে হাসপাতালের কাছের ঠিকানা ও ফোন নম্বর আগে থেকে ফোনে সেভ রাখুন।
হাসপাতালে কী হয় ও কী নেবেন?
চিকিৎসক সাধারণত কী করেন
- পরীক্ষা: রক্তের কণিকা ও প্লেটলেট গণনা (CBC), প্রয়োজনে হেমাটোক্রিট এবং জ্বরের প্রথম কয়েক দিনে NS1 বা পরে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা। কোন পরীক্ষা কখন, তা চিকিৎসক ঠিক করেন
- প্লেটলেটের সংখ্যা একা বিচার্য নয়। প্লেটলেট কমা ডেঙ্গুর একটি সংকেত হলেও চিকিৎসক লক্ষণ, রক্তচাপ, হেমাটোক্রিট ও শিশুর সার্বিক অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেন। তাই সংখ্যা দেখে নিজে নিজে আতঙ্কিত বা নিশ্চিন্ত হবেন না
- তরল চিকিৎসা: মুখে খেতে না পারলে বা বিপদ-চিহ্ন থাকলে শিরায় স্যালাইন দেওয়া হয়। সঠিক পরিমাণই আসল, কারণ বেশি তরলও ক্ষতি করে। তাই এটা হাসপাতালে নজরদারিতে হওয়া দরকার
- নজরদারি: নিয়মিত রক্তচাপ, নাড়ি, প্রস্রাবের পরিমাণ ও রক্তপাত দেখা হয়
হাসপাতাল ব্যাগে কী রাখবেন
শিশুর জন্য
- ডায়াপার ও ওয়াইপস
- এক-দুই সেট নরম সুতির জামা
- ব্ল্যাংকেট ও তোয়ালে
- ফিডিং বোতল বা সিপি কাপ
- প্রিয় নরম খেলনা, ছবির বই
- থার্মোমিটার
মা বা সঙ্গীর জন্য
- আরামদায়ক ঢিলা পোশাক ও একটি বাড়তি জামা
- ফোনের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক
- ব্যক্তিগত যত্নের ছোট ব্যাগ (কসমেটিক ব্যাগ)
- পানি ও হালকা শুকনো খাবার
- ট্রাভেল ব্যাগ বা টোট ব্যাগ
কাগজ ও তথ্য
- শিশুর জন্মসনদ, টিকার কার্ড ও আগের রিপোর্ট
- রোজকার খাতা (জ্বর, তরল, ওষুধের হিসাব)
- যেসব ওষুধ দিয়েছেন তার তালিকা ও সময়
- শিশুর ওজন (সম্প্রতি মাপা)
- শিশু বিশেষজ্ঞের ফোন নম্বর
- অ্যালার্জি বা অন্য রোগের তথ্য
খাওয়া ও তরল: অসুস্থ শিশুকে কী খাওয়াবেন?
ডেঙ্গুতে শিশুর ক্ষুধা কমে যায়, বমি বমি ভাব থাকে। তবু তরলের ঘাটতি যেন না হয়, সেটাই সবচেয়ে বড় কাজ।
- বুকের দুধ চলবে। বুকের দুধ খাওয়া শিশু অসুস্থ অবস্থাতেও বুকের দুধ বেশি বেশি খাবে। বন্ধ করবেন না। মা অসুস্থ হলেও চিকিৎসকের পরামর্শমতো সাধারণত চালিয়ে যাওয়া যায়
- ফর্মুলা বা বোতলে খাওয়া শিশু: একসাথে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে ঘন ঘন দিন। বোতল ও পাত্র পরিষ্কার রাখুন
- ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশু: খাবার স্যালাইন, ভাতের মাড়, নরম খিচুড়ি, স্যুপ, দই, কলা ও ফলের রস দিন। শিশুর পছন্দের হালকা খাবার দিন, জোর করবেন না
- খাবার স্যালাইন: প্যাকেটের নিয়ম অনুযায়ী ঠিক পরিমাণ পানিতে গুলুন, বেশি বা কম পানি নয়। গুলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন
- বমি হলে: কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে চামচে অল্প অল্প করে আবার দিন। বমি থামছে না বা তরল ধরে রাখতে পারছে না, তাহলে হাসপাতালে যান
- সুস্থ হওয়ার সময়: আয়রন, প্রোটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ হালকা খাবার দিন। কোনো ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট চিকিৎসকের পরামর্শে দিন
পেঁপে পাতার রস ও ঘরোয়া টোটকা: সামাজিক মাধ্যমে ও মুখে মুখে অনেক ঘরোয়া উপায়, যেমন পেঁপে পাতার রস, নিয়ে আলোচনা হয়। এসব নিয়ে নির্ভরযোগ্য ও বড় পরিসরের প্রমাণ সীমিত। ছোট শিশুর ক্ষেত্রে অপরিচিত কিছু খাওয়ানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের মত নিন। কোনো টোটকাই চিকিৎসকের নজরদারি বা বিপদ-চিহ্ন দেখলে হাসপাতালে যাওয়ার বিকল্প নয়।
- বেবি ফিডিং
- ব্রেস্টফিডিং অ্যাক্সেসরিজ
- ম্যানুয়াল ব্রেস্ট পাম্প
- ইলেকট্রিক ব্রেস্ট পাম্প
- মিল্ক স্টোরেজ ও কুলার ব্যাগ
- ইনফ্যান্ট ফর্মুলা
- ফিডিং বোতল
- বোতল স্টেরিলাইজার
- সিপি কাপ
- স্ট্র কাপ
- বেবি মগ ও কাপ
- বেবি ওয়াটার বোতল
- থার্মোস ও ফ্লাস্ক
- বেবি ফুড
- বেবি সিরিয়াল ও ওটস
- পরিজ ও কাস্টার্ড
- অর্গানিক ও সুপারফুডস
- ফুড ও মিল্ক কন্টেইনার
- বাটি ও প্লেট
- চামচ ও কাঁটাচামচ
খাওয়ানোর আরও পরামর্শ পাবেন পুষ্টি ও খাওয়ানোর গাইডে।
গর্ভবতী ও দুগ্ধদাত্রী মা
গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু হলে মা ও গর্ভের শিশু দুজনের জন্য ঝুঁকি থাকে, তাই এ ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা দরকার। জ্বর হলে বা ডেঙ্গুর কোনো লক্ষণ দেখলে সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। নিজে নিজে ওষুধ নেবেন না, বিশেষ করে ব্যথানাশক।
গর্ভাবস্থায় প্রতিরোধ
- দিনেও মশারি ব্যবহার করুন
- ঢিলা ফুলহাতা সুতির জামা পরুন
- চিকিৎসকের পরামর্শমতো লেবেল অনুযায়ী রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন
- বাসার চারপাশে জমা পানি পরিষ্কারে নিজে ভারী কাজ না করে অন্যের সাহায্য নিন
বিপদ-চিহ্নে জরুরি
- তীব্র পেটে ব্যথা বা বারবার বমি
- যোনিপথে রক্তপাত বা অন্য কোনো রক্তপাত
- গর্ভের শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া
- অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব
প্রসবের পর ও বুকের দুধ
- প্রসবের পর শরীর দুর্বল থাকে, তাই বিশ্রাম ও পুষ্টি দরকার
- মা অসুস্থ হলে শিশুকে বুকের দুধ চালানো যাবে কি না, চিকিৎসক জানিয়ে দেবেন
- সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত শিশু ও মা দুজনকেই মশারির ভেতরে রাখুন
- ম্যাটার্নিটি ও প্রেগনেন্সি
- ম্যাটার্নিটি ড্রেস ও টপস
- ম্যাটার্নিটি পিলো
- ম্যাটার্নিটি পার্সোনাল কেয়ার
- মম হেলথকেয়ার
- নিউট্রিশন ও ওয়েলনেস
- মম ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট (চিকিৎসকের পরামর্শে)
- প্রসব-পরবর্তী যত্ন
- রিকভারি এসেনশিয়ালস
- মম কেয়ার
- প্রেগনেন্সি বই
- মাদারহুড বই
- ম্যাটারনাল ওয়েলনেস
গর্ভাবস্থার পুরো প্রস্তুতি জানতে দেখুন গর্ভাবস্থা ও মাতৃত্ব গাইড এবং আপনার সম্ভাব্য ডেলিভারির তারিখ জানতে ডিউ ডেট ক্যালকুলেটর।
স্কুলগামী শিশু: দিনের বেলার সুরক্ষা
দিনের যে সময় বাচ্চা স্কুলে থাকে, সে সময়েই এডিস মশা সবচেয়ে সক্রিয়। তাই স্কুলের সময়ের জন্য আলাদা প্রস্তুতি দরকার।
- ফুলহাতা জামা ও ফুল প্যান্ট স্কুলের পোশাকের সাথে মিলিয়ে নিন। প্রয়োজনে হালকা কার্ডিগান পরান
- বাড়ি ফিরে শরীরে মশার কামড়ের দাগ আছে কি না দেখুন
- পানির বোতল ও টিফিন বক্স পরিষ্কার রাখুন। ঢাকনা শক্তভাবে লাগিয়ে দিন, যাতে কোনো পাত্রে পানি জমে না থাকে
- স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান। মাঠ, ছাদ, ব্লকের নর্দমা ও টয়লেটে জমা পানি আছে কি না খেয়াল রাখতে বলুন
- জ্বর হলে স্কুলে পাঠাবেন না। চিকিৎসক দেখান ও সুস্থতার অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত বাড়িতে রাখুন। এতে অন্যরাও সুরক্ষিত থাকে
- অ্যাসাইনমেন্ট ও পড়ার চাপ নিয়ে ক্লাসের শিক্ষককে আগেই জানিয়ে রাখুন
- স্কুল ব্যাগ
- স্কুল এসেনশিয়ালস
- টিফিন ও লাঞ্চ বক্স
- পানির বোতল
- লার্নিং ও স্টেশনারি
- স্কুল বা প্রতিষ্ঠানের বাল্ক অর্ডার
সুস্থ হওয়ার পর কী করবেন?
জ্বর ও সংকটকাল পার হলেও শরীর পুরো সেরে উঠতে সময় লাগে। তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরুন।
- বিশ্রাম: কয়েকদিন দুর্বলতা ও ক্লান্তি থাকতে পারে। কখন স্কুল বা খেলাধুলায় ফেরা যাবে, তা চিকিৎসক বলে দেবেন
- পুষ্টিকর খাবার: ডিম, ডাল, মাছ, মাংস, ফল ও সবজি সামর্থ্য অনুযায়ী দিন। জোর না করে ছোট ছোট পরিমাণে ঘন ঘন খাওয়ান
- ফলোআপ: চিকিৎসক যে পরীক্ষা বা ফলোআপের কথা বলেছেন, তা মিস করবেন না
- মনের যত্ন: হাসপাতাল ও ইনজেকশনের অভিজ্ঞতায় শিশুর মনে ভয় থাকতে পারে। গল্প, আদর ও কথা বলার মাধ্যমে তাকে আশ্বস্ত করুন
- আবার সতর্ক থাকুন: একবার ডেঙ্গু হলেও আবার হতে পারে। প্রতিরোধের অভ্যাস চালিয়ে যান
- টিকা সম্পর্কে: ডেঙ্গুর টিকা নিয়ে গবেষণা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া চলমান। আপনার সন্তানের বয়স ও পরিস্থিতিতে কোনো টিকা প্রযোজ্য কি না, তা শিশু বিশেষজ্ঞ ও সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য দেখে জানুন
- বেবি ভিটামিন ও ওয়েলনেস (চিকিৎসকের পরামর্শে)
- বেবি ফুড
- টডলার ও গ্রোয়িং-আপ মিল্ক
- বেবি স্কিনকেয়ার
- সেনসিটিভ স্কিন কেয়ার
- র্যাশ কেয়ার
- বেবি লোশন ও ময়েশ্চারাইজার
- Sebamed Baby Extra Soft Cream ৫০ মি.লি.
অসুস্থ শিশুকে ঘরে শান্তভাবে ব্যস্ত রাখা
বিশ্রামে থাকা শিশুকে বিছানায় আটকে রাখা সহজ নয়। দৌড়ঝাঁপ ছাড়া শান্ত ও হাতের কাজের খেলা তাকে ভুলিয়ে রাখে। স্ক্রিনে বেশিক্ষণ বসিয়ে রাখার চেয়ে এগুলো ভালো।
ছোটদের জন্য (০ থেকে ২ বছর)
২ থেকে ৫ বছর
৬ বছর ও তার বেশি
অসুস্থতার সময় মনে শান্তি আনতে দোয়া ও ছোট সূরা শোনানো অনেক পরিবারের অভ্যাস। দেখতে পারেন দোয়া ও আযকার, ঘুমের গল্প ও ইসলামিক গল্প।
ভুল ধারণা বনাম সত্য
| প্রচলিত ধারণা | আসল তথ্য |
|---|---|
| "নোংরা পানিতে ডেঙ্গুর মশা জন্মায়।" | এডিস মশা বরং পরিষ্কার, জমে থাকা পানি পছন্দ করে। বালতি, ফুলদানি ও এসির পানিও এর প্রজননক্ষেত্র |
| "মশা শুধু রাতে কামড়ায়।" | এডিস মশা প্রধানত দিনের বেলায়, বিশেষ করে ভোর ও বিকেলে কামড়ায়। তাই দিনেও মশারি দরকার |
| "ঘরের ভেতর নিরাপদ।" | এডিস মশা ঘরের ভেতরেও কামড়ায় এবং অন্ধকার কোণে লুকিয়ে থাকে |
| "জ্বর কমে গেছে, আর ভয় নেই।" | অনেক সময় জ্বর কমার পর বিপজ্জনক সময় শুরু হয়। পরের ২৪–৪৮ ঘণ্টা সবচেয়ে সতর্ক থাকতে হয় |
| "যেকোনো ব্যথানাশক দিলেই চলে।" | অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেন-জাতীয় ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জ্বর ও ব্যথায় শুধু প্যারাসিটামল, ডোজ চিকিৎসকের কথামতো |
| "ডেঙ্গু একবার হলে আর হয় না।" | ভাইরাস চার ধরনের। এক ধরনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা তৈরি হলেও অন্য ধরনে আবার আক্রান্ত হওয়া সম্ভব |
| "ডেঙ্গু রোগীর ছোঁয়ায় ছড়ায়।" | সরাসরি ছোঁয়ায় ছড়ায় না। রোগীকে কামড়ানো মশা অন্যকে কামড়ালে ছড়ায়। তাই রোগীকে মশারির ভেতরে রাখুন |
| "কয়েল বা ধোঁয়া দিলেই মশা শেষ।" | ধোঁয়া ও কয়েল শিশুর শ্বাসের ক্ষতি করে। ডেঙ্গুর মশা দমনের প্রধান উপায় জমা পানি দূর করা ও কামড় থেকে বাঁচা |
| "প্লেটলেট বাড়ানোর টোটকা খেলেই ভালো হবে।" | কোনো টোটকা চিকিৎসকের নজরদারির বিকল্প নয়। বিপদ শুধু প্লেটলেটের সংখ্যায় নয়, লক্ষণ ও অন্যান্য পরীক্ষা মিলিয়ে বিচার হয় |
ডেঙ্গু-প্রস্তুত ঘরের চেকলিস্ট
মৌসুম শুরুর আগেই এই জিনিসগুলো ঘরে রাখলে অসুস্থতার সময় ছোটাছুটি কমে। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া কোনো ওষুধ মজুত করে রাখবেন না, বিশেষ করে ছোটদের জন্য।
- মশারি ও জালির সুরক্ষা। বাচ্চার বিছানার মশারি, স্ট্রলারের নেট ও জানালার জালি ঠিক আছে কি না দেখুন।
- থার্মোমিটার ও ড্রপার। সঠিকভাবে জ্বর মাপতে ও ওষুধ মাপতে এগুলো দরকার।
- খাবার স্যালাইন। কয়েক প্যাকেট হাতের কাছে রাখুন এবং মেয়াদ দেখে নিন।
- রোজকার খাতা ও কলম। জ্বর, তরল ও প্রস্রাবের হিসাব রাখার জন্য।
- ফোন নম্বর ও ঠিকানা। শিশু বিশেষজ্ঞ, কাছের হাসপাতাল ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর ফোনে সেভ রাখুন।
- কাগজপত্র ও ব্যাগ। টিকার কার্ড, আগের রিপোর্ট এবং হালকা হাসপাতাল ব্যাগ গুছিয়ে রাখুন।
- বয়স অনুযায়ী রিপেলেন্ট। শিশুর বয়সে উপযোগী কি না লেবেল দেখে ও চিকিৎসকের পরামর্শে নিন।
- বেবি মশারি
- থার্মোমিটার
- মেডিসিন ড্রপার ও চামচ
- মশা থেকে সুরক্ষা
- চাইল্ড সেফটি
- নিউবর্ন কেয়ার কিট
- বেবি হেলথকেয়ার
- ডায়াপার ব্যাগ
পুরো প্রস্তুতির তালিকা বানাতে ব্যবহার করুন বেবি শপিং চেকলিস্ট।
৫টি সাধারণ ভুল, যা এড়িয়ে চলবেন
- জ্বর কমলেই নিশ্চিন্ত হওয়া। ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় অনেক সময় জ্বর কমার পর শুরু হয়। ২৪–৪৮ ঘণ্টা বিশেষ নজরে রাখুন।
- নিজে নিজে ব্যথানাশক দেওয়া। আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন নয়। প্যারাসিটামলও ডোজ ও সময় মেনে, চিকিৎসকের কথামতো।
- শুধু রাতে মশারি দেওয়া। এডিস মশা দিনে কামড়ায়, তাই দিনের ঘুমেও মশারি দিন।
- বাথরুম ও বাসার কোণে পানি জমতে দেওয়া। সপ্তাহে একবার সব পাত্র খালি করে ঘষে ধোয়ার অভ্যাস করুন।
- ছোট শিশুকে রিপেলেন্ট দেওয়া। দুই মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য রিপেলেন্ট নয়, মশারি। বড়দের পণ্য শিশুর ত্বকে লাগাবেন না।
সব এক নজরে: কোন প্রয়োজনে কোথায় দেখবেন
- মশা থেকে সুরক্ষা
- বেবি মশারি
- হেলথ ও সেফটি
- বেবি হেলথকেয়ার
- চাইল্ড সেফটি
- নিউবর্ন ও নার্সারি
- বেবি ফিডিং
- মিল্ক ও ফর্মুলা
- কাপ ও হাইড্রেশন
- বাথ ও স্কিন
- ডায়াপারিং ও পটি
- টয়েজ ও অ্যাক্টিভিটি
- বই
- লার্নিং ও স্টেশনারি
- মম কেয়ার
- বেবি গিয়ার
- জামা ও জুতা
- হোম ও ট্রাভেল
আরও পড়ুন ও কাজের টুল
- নবজাতকের যত্ন
- পুষ্টি ও খাওয়ানোর গাইড
- শিশুর বিকাশ ও দক্ষতা
- গর্ভাবস্থা ও মাতৃত্ব
- প্যারেন্টিং গাইড
- গ্রোথ ট্র্যাকার
- মাইলস্টোন ট্র্যাকার
- বেবি শপিং চেকলিস্ট
- হেল্প সেন্টার ও FAQ
- ডেলিভারি ও শিপিং
- অর্ডার ট্র্যাকিং
- রিটার্ন ও রিফান্ড
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
বাচ্চার জ্বর হলে কীভাবে বুঝব এটা ডেঙ্গু কি না?
লক্ষণ দেখে ঘরে নিশ্চিত হওয়া যায় না, কারণ অন্য ভাইরাসজ্বরও একই রকম হতে পারে। জ্বরের সাথে চোখের পেছনে ব্যথা, গা-হাত-পায়ে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা র্যাশ থাকলে এবং আশপাশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকলে সন্দেহ বাড়ে। প্রথম বা দ্বিতীয় দিনেই শিশু বিশেষজ্ঞ দেখান, তিনি পরীক্ষা করে বলবেন। তিন মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর হলে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে যান।
ডেঙ্গু হলে বাচ্চাকে কোন ওষুধ দেব?
ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। জ্বর ও ব্যথায় শুধু প্যারাসিটামল দেওয়া হয়, ডোজ শিশুর ওজন ও বয়স অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করে দেন। অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন ও অন্যান্য NSAID ব্যথানাশক দেবেন না, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েডও নয়।
জ্বর কমে গেলে কি বাচ্চাকে স্কুলে পাঠানো যায়?
না, জ্বর কমে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে পাঠাবেন না। জ্বর কমার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সবচেয়ে সতর্ক থাকার সময়, আর শরীর দুর্বল থাকে। কখন স্কুল ও খেলাধুলায় ফেরা যাবে, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।
ছোট শিশুকে মশার ওষুধ বা রিপেলেন্ট লাগানো যাবে কি?
দুই মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য কোনো রিপেলেন্ট নয়, শুধু মশারি ও ঢাকা পোশাক। দুই মাসের বেশি হলে লেবেল ও চিকিৎসকের পরামর্শমতো DEET (সর্বোচ্চ ৩০%), পিকারিডিন বা IR3535 ব্যবহার করা যায়। লেবু-ইউক্যালিপটাস তেল (OLE/PMD) তিন বছরের নিচে নয়। শিশুর হাতে, চোখে, মুখে বা কাটা ত্বকে লাগাবেন না।
ডেঙ্গুতে বাচ্চাকে কী খাওয়াব?
বুকের দুধ বা ফর্মুলা, খাবার স্যালাইন, পানি, ভাতের মাড়, স্যুপ ও নরম হালকা খাবার দিন। তরল অল্প অল্প করে ঘন ঘন দিন। বমি বা তরল না খেতে পারলে হাসপাতালে যান। বুকের দুধ খাওয়া শিশুর বুকের দুধ বন্ধ করবেন না।
গর্ভবতী মা ডেঙ্গুর মৌসুমে কী সাবধানতা নেবেন?
দিনেও মশারি ব্যবহার করুন, ঢিলা ফুলহাতা জামা পরুন, বাসায় জমা পানি পরিষ্কারে অন্যের সাহায্য নিন। জ্বর হলে বা পেটে তীব্র ব্যথা, বমি, রক্তপাত বা গর্ভের শিশুর নড়াচড়া কমে গেলে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে যান। নিজে নিজে ব্যথানাশক নেবেন না।
প্লেটলেট কমে গেলে কি ভয়ের কিছু আছে?
প্লেটলেট কমা ডেঙ্গুর একটি সংকেত হতে পারে, কিন্তু বিপদ শুধু সংখ্যায় নয়। চিকিৎসক শিশুর লক্ষণ, রক্তচাপ, হেমাটোক্রিট ও সার্বিক অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেন। সংখ্যা দেখে নিজে নিজে চিন্তিত বা নিশ্চিন্ত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
ডেঙ্গুর টিকা কি পাওয়া যায়?
ডেঙ্গুর টিকা নিয়ে গবেষণা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া বিভিন্ন দেশে চলছে। আপনার সন্তানের বয়সে কোনো টিকা প্রযোজ্য ও বাংলাদেশে অনুমোদিত কি না, তা শিশু বিশেষজ্ঞ ও সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য থেকে জানুন। টিকা থাকুক বা না থাকুক, মশার জন্ম ও কামড় ঠেকানোর অভ্যাস চালিয়ে যান।
মশা থেকে সুরক্ষার সহায়ক সরঞ্জাম এক জায়গায়
মশা থেকে সুরক্ষা কালেকশন দেখুনবি.দ্র.: এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য, চিকিৎসকের পরামর্শ বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। শিশুর জ্বর, ডেঙ্গুর সন্দেহ, ওষুধের ডোজ, গর্ভাবস্থায় অসুস্থতা বা কোনো জরুরি লক্ষণে অবশ্যই চিকিৎসক বা নিকটস্থ হাসপাতালে যান। এই পোস্টে উল্লিখিত কোনো পণ্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ বা চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেয় না; ব্যবহারের আগে লেবেল ও বয়সসীমা দেখুন। সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা মেনে চলুন।