বাচ্চা মুখে খাবার নিয়ে বসে থাকে, মাথা ঘুরিয়ে নেয়, একবেলা খায় তো আরেক বেলা প্রায় কিছুই না। প্রতিদিন খাবারের সময় আসে মানেই মায়ের দুশ্চিন্তা আর বাচ্চার জেদ। প্রথম কথাটা হলো, এটা প্রায় সব পরিবারেই হয়, আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর কারণ রোগ নয়। শিশুর বয়সের স্বাভাবিক পর্যায় আর খাওয়ানোর কিছু অভ্যাসই বড় ভূমিকা রাখে। এই গাইডে জানবেন শিশু কেন খেতে চায় না, কোনটা স্বাভাবিক, কীভাবে সামলাবেন আর কোন লক্ষণে ডাক্তার দেখাবেন।
এক নজরে উত্তর: শিশু খেতে না চাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ চারটি: ১) বয়সের স্বাভাবিক পর্যায় (এক বছরের পর বৃদ্ধি ধীর হয়, ক্ষুধা কমে, নতুন খাবারে ভয় বাড়ে), ২) অসময়ে স্ন্যাক, জুস বা দুধ, যাতে মূল খাবারের সময় ক্ষুধা থাকে না, ৩) জোর, ধমক বা ঘুষ, যা খাবারের প্রতি ভয় তৈরি করে, ৪) স্ক্রিন বা অন্য মনোযোগ, যাতে শিশু পেট ভরার সংকেত বোঝে না। সমাধান: নির্দিষ্ট রুটিনে খাবার ও স্ন্যাক, ছোট পরিবেশন, চাপ ছাড়া বারবার নতুন খাবার দেওয়া। আর ওজন বাড়লে ও শিশু সক্রিয় থাকলে সাধারণত চিন্তার কিছু নেই।
আগে জানুন: কোনটা স্বাভাবিক?
ছোট শিশুদের খাওয়ার অনেক আচরণ দেখে ভয় লাগে, কিন্তু বিকাশের দিক থেকে এগুলো স্বাভাবিক।
- এক বছরের পর ক্ষুধা কমে। প্রথম বছরে শিশুর ওজন ও উচ্চতা খুব দ্রুত বাড়ে। এরপর বৃদ্ধির গতি ধীর হয়, তাই আগের মতো খায় না। এটা খারাপ লক্ষণ নয়
- নতুন খাবারে ভয় (ফুড নিওফোবিয়া)। দুই থেকে ছয় বছরে এই ভয় সবচেয়ে বেশি থাকে। একই খাবার চেনা না হওয়া পর্যন্ত শিশু সেটা এড়ায়
- একটা খাবার ১০ থেকে ১৫ বার দিতে হতে পারে। শুরুতে প্রত্যাখ্যান করলেও বারবার, চাপ ছাড়া দিলে অনেক শিশু একসময় খায়
- দিন বুঝে ক্ষুধা বদলায়। আজ ভালো খেল, কাল অল্প, এটা সাধারণ। এক-দুই বেলার হিসাবের বদলে সপ্তাহের গড় দেখুন
- "ফুড জ্যাগ"। কিছুদিন একই খাবার বারবার চাইল, তারপর হঠাৎ আর খেতে চাইল না
- উন্নতি আসে। বেশিরভাগ শিশুর খুঁতখুঁতে ভাব চার থেকে ছয় বছরের মধ্যে কমে আসে, বিশেষ করে স্কুলে বা বন্ধুদের সাথে খেলে
শিশুর ওজন ও বিকাশ ঠিক চলছে কি না দেখতে ব্যবহার করুন বেবি গ্রোথ ট্র্যাকার ও মাইলস্টোন ট্র্যাকার।
শিশু খেতে না চাওয়ার ১০টি সাধারণ কারণ
| কারণ | কীভাবে বুঝবেন | কী করবেন |
|---|---|---|
| ১. অসময়ে স্ন্যাক, জুস বা দুধ | মূল খাবারের এক-দুই ঘণ্টা আগে বিস্কুট, ফল, চকলেট, আইসক্রিম বা জুস। সারাদিন অল্প অল্প করে খাওয়া | খাবার ও স্ন্যাকের মধ্যে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ফাঁক রাখুন। ফাঁকে শুধু পানি। জুস ও মিষ্টি পানীয় কমান |
| ২. জোর, ধমক বা ঘুষ | "আর এক লোকমা", "না খেলে বকব", "খেলে চকলেট দেব"। শিশু খাবার দেখলে মুখ বন্ধ করে বা কাঁদে | জোর ও ঘুষ দুটোই বন্ধ। খাবার শুধু সামনে রাখুন, খাওয়া বা না খাওয়া শিশুর সিদ্ধান্ত |
| ৩. বেশি পরিবেশন ও অবাস্তব প্রত্যাশা | বড় প্লেট ভর্তি খাবার, কিন্তু শিশুর পেটের মাপ ছোট। প্লেট খালি না করলে মা হতাশ | ছোট পরিবেশন দিন, চাইলে আবার নেবে। শিশুর মুঠোর আকার অনুযায়ী পরিমাণ ধরা যায় |
| ৪. স্ক্রিন বা খেলনা সামনে | মোবাইল বা টিভি ছাড়া খায় না। হাঁ করে স্ক্রিন দেখে, মুখে খাবার ঘোরে | খাওয়ার সময় স্ক্রিন বন্ধ। কথা বলুন, চোখে চোখ রাখুন। সময় ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে রাখুন |
| ৫. একঘেয়ে বা অনাকর্ষণীয় খাবার | রোজ একই খাবার, একই স্বাদ। কিংবা শুধু পিউরি, অথচ বয়স বেড়েছে | বৈচিত্র্য আনুন, রং ও আকার বদলান। বয়স অনুযায়ী ধীরে ধীরে খাবারের গঠন (টেক্সচার) বাড়ান |
| ৬. দাঁত ওঠা, গলা বা কানের ব্যথা | মুখে হাত, লালা, মাড়ি ফোলা, গিলতে কষ্ট। সর্দি-কাশি বা জ্বর থাকতে পারে | নরম, ঠান্ডা বা কুসুম গরম খাবার দিন। সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসক দেখান |
| ৭. কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের সমস্যা | কয়েকদিন পায়খানা হয় না বা শক্ত হয়। পেট ফোলা, পেটব্যথা | পানি ও আঁশযুক্ত খাবার (ফল, সবজি) বাড়ান। বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন |
| ৮. রক্তশূন্যতা বা পুষ্টির ঘাটতি | ফ্যাকাসে ত্বক, ক্লান্তি, খিটখিটে ভাব, ক্ষুধা কম। অতিরিক্ত দুধ খেলেও আয়রনের ঘাটতি হতে পারে | চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা করান। নিজে আয়রন বা সিরাপ দেবেন না। লোহাসমৃদ্ধ খাবার (ডিম, ডাল, মাছ, মাংস, শাক) বাড়ান |
| ৯. কৃমি বা সংক্রমণ | পেট ফোলা, রাতে দাঁত কিড়মিড়, পায়ুপথে চুলকানি, ওজন না বাড়া | সন্দেহ হলে চিকিৎসক দেখান। জাতীয় কর্মসূচি বা চিকিৎসকের নির্দেশমতো ওষুধ। হাত ধোয়া, নখ ছোট ও নিরাপদ পানি ঠিক রাখুন |
| ১০. খাবারে অ্যালার্জি বা অসহিষ্ণুতা | খাওয়ার পর ফুসকুড়ি, মুখ বা ঠোঁট ফোলা, বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা | সন্দেহজনক খাবার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শ্বাসকষ্ট বা মুখ-গলা ফুললে জরুরি চিকিৎসা |
আরও কিছু কারণ: নতুন ভাই-বোন আসা, স্কুল শুরু, ঘর বদল বা পারিবারিক চাপ শিশুর খাওয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে ক্লান্তি, ঘুম কম বা গরমে ক্ষুধা কমাও সাধারণ। আর খাওয়ার সময় বারবার ধমক বা টানাটানি হলে শিশু পুরো ব্যাপারটাকেই ভয়ের জায়গা ভাবতে শুরু করে।
৮টি কার্যকর কৌশল
শিশু বিশেষজ্ঞদের একটি পরিচিত নিয়ম হলো "দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া"। আপনি ঠিক করবেন কী খাবার দেবেন, কখন ও কোথায় খাবে। শিশু ঠিক করবে খাবে কি না ও কতটুকু। এতে জোরাজুরি কমে, আর শিশু নিজের ক্ষুধা-পেট ভরার সংকেত চিনতে শেখে।
- নির্দিষ্ট রুটিন করুন। তিন বেলা মূল খাবার ও এক-দুই বার হালকা স্ন্যাক, সময় প্রায় একই রাখুন। মাঝে মাঝে সুযোগ পেলেই কিছু খাইয়ে দেওয়া বন্ধ করুন।
- ছোট পরিবেশন দিন। একটু একটু করে দিন, বেশি লাগলে আবার নেবে। বড় প্লেট দেখলেই অনেক শিশু ভয় পায়।
- প্লেটে একটা পরিচিত খাবার রাখুন। সাথে নতুন বা অপছন্দের খাবার অল্প। তাতে "এটা খাও, নইলে না খেয়ে থাকো" চাপ থাকে না।
- বারবার, চাপ ছাড়া দিন। প্রত্যাখ্যাত খাবার আবার কয়েকদিন পর অল্প করে সামনে রাখুন। দেখা, ছোঁয়া ও গন্ধ নেওয়াও এক ধরনের অগ্রগতি।
- একসাথে বসে খান। পরিবারের সাথে এক টেবিলে খেলে শিশু বড়দের দেখে শেখে। খাওয়া ২০ থেকে ৩০ মিনিটে শেষ করুন, তার বেশি টানবেন না।
- স্ক্রিন ও অন্যান্য মনোযোগ সরান। টিভি, মোবাইল ও খেলনা সরিয়ে শিশুর সাথে কথা বলুন। এতে সে কতটুকু খেয়েছে বুঝতে পারে।
- শিশুকে সঙ্গী করুন। বাজারে নিয়ে যান, সবজি ধোয়ান, টেবিল সাজাতে দিন, নিজে চামচ ধরতে দিন। নোংরা করলেও চলবে।
- খাবারে বৈচিত্র্য আনুন। একই খাবারকে ভিন্ন রূপে (সেদ্ধ, ভাজা, স্যুপ, পরোটা, ওমলেট) দিন। শিশুর পছন্দ জেনে নিন, কিন্তু আলাদা "বাচ্চার খাবার" রান্না করার অভ্যাস করবেন না।
- বেবি মিলটাইম
- বেবি ফিডিং সেট
- বাটি ও প্লেট
- চামচ ও কাঁটাচামচ
- ফিডিং অর্গানাইজার ও অ্যাক্সেসরিজ
- বিব ও বার্প ক্লথ
- বেবি গিয়ার
- বেবি ওয়াইপস
এই কৌশলগুলো সলিড খাবার শুরুর সময়ও কাজে লাগে। আমাদের বাচ্চাকে সলিড খাবার শুরু করানোর গাইডে বিস্তারিত পাবেন। স্ক্রিন কমানোর উপায় নিয়ে পড়ুন আমাদের স্ক্রিন-গাইডে।
বয়স অনুযায়ী খাওয়ার রুটিন কেমন হবে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা অনুযায়ী ছয় মাসের পর বুকের দুধের পাশাপাশি সম্পূরক খাবার দিতে হয়। সংখ্যা একটু এদিক-ওদিক হতেই পারে, তবে একটা সাধারণ ধারণা:
| বয়স | কতবার | মনে রাখবেন |
|---|---|---|
| ০ থেকে ৬ মাস | শিশু চাইলেই বুকের দুধ (বা চিকিৎসকের পরামর্শে ফর্মুলা) | কড়া ঘড়ির নিয়ম নয়। শিশুর ক্ষুধার সংকেত দেখুন: মুখ খোলা, হাত চোষা, ঠোঁট নাড়ানো। কান্না অনেক সময় দেরির সংকেত। শুধু কান্নাই ক্ষুধা নয়, ঘুম, ভেজা ডায়াপার, গরম বা আদরের জন্যও কাঁদে |
| ৬ থেকে ৮ মাস | দিনে ২ থেকে ৩ বার সম্পূরক খাবার, সাথে বুকের দুধ | মসৃণ পিউরি বা ঘন মাখা খাবার। অল্প পরিমাণে শুরু |
| ৯ থেকে ১১ মাস | ৩ থেকে ৪ বার, সাথে ১ থেকে ২ বার হালকা স্ন্যাক | নরম টুকরো ও হাতে ধরার ফিঙ্গার ফুড। নিজে খেতে দিন |
| ১২ থেকে ২৩ মাস | ৩ থেকে ৪ বার, সাথে ১ থেকে ২ বার স্ন্যাক | ধীরে ধীরে পরিবারের খাবারের কাছাকাছি। বুকের দুধ চালিয়ে যেতে পারেন |
| ২ বছর ও তার বেশি | ৩ বেলা মূল খাবার ও ১ থেকে ২ বার হালকা স্ন্যাক | মাঝে পানি। অতিরিক্ত দুধ, জুস ও মিষ্টি এড়ান |
ফর্মুলায় খাওয়া শিশুর ক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যা ও পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শমতো ঠিক করুন। বিস্তারিত পড়ুন পুষ্টি ও খাওয়ানোর গাইডে।
স্ন্যাক হিসেবে কী দেবেন?
স্ন্যাক মানে বিস্কুট বা চকলেট নয়। মূল খাবারের মতোই পুষ্টিকর কিছু দিন: কলা, পেঁপে, সেদ্ধ ডিম, দই, মুড়ি-চানাচুর ছাড়া সাধারণ মুড়ি, রুটির টুকরো, সেদ্ধ মিষ্টি আলু, বাদামের গুঁড়া মেশানো খিচুড়ি (অ্যালার্জি না থাকলে)। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে আস্ত বাদাম, আস্ত আঙুর ও শক্ত টুকরো দিয়ে শ্বাসরোধের ঝুঁকি নেবেন না।
- বেবি ফুড
- বেবি সিরিয়াল ও ওটস
- পরিজ ও কাস্টার্ড
- বেবি স্ন্যাকস ও ড্রিংকস
- বেবি পাস্তা ও নুডলস
- অর্গানিক ও সুপারফুডস
- টডলার ও গ্রোয়িং-আপ মিল্ক
- ইনফ্যান্ট ফর্মুলা
- ফুড ও মিল্ক কন্টেইনার
- ব্রেস্টফিডিং অ্যাক্সেসরিজ
খাওয়ার সময় কী বলবেন, কী বলবেন না
| এড়িয়ে চলুন | বরং বলুন |
|---|---|
| "আর এক লোকমা খাও!" | "তোমার পেট ভরলে বলো। আমি তুলে রাখব।" |
| "না খেলে চকলেট পাবে না।" বা "খেলে চকলেট পাবে।" | "খাবারের পর আমরা একসাথে গল্প করব।" |
| "দেখো, রাহি কত ভালো খায়!" | "এই গাজর আজ একটু দেখবে? ছুঁয়ে দেখো।" |
| "প্লেট খালি করো, নইলে আল্লাহ রাগ করবেন।" | "যতটুকু লাগে ততটুকু খাও। খাবার শুরুর আগে বিসমিল্লাহ বলো।" |
| "তুমি কিছুই খাও না, আমার মাথা ধরে যায়!" | শান্ত থাকুন। খাবার শেষে কোনো মন্তব্য ছাড়াই তুলে রাখুন। |
"শিশু শেষ কয়েক লোকমা ফেলে রাখলে" তা নিয়ে সমস্যা করবেন না। প্লেট খালি করার প্রশংসাও এড়ান, কারণ এতে শিশু পেট ভরার সংকেত অগ্রাহ্য করতে শিখতে পারে।
- পজিটিভ প্যারেন্টিং
- শিশু মনোবিজ্ঞান
- প্যারেন্টিং ও ডিসিপ্লিন
- ডিজিটাল প্যারেন্টিং ও স্ক্রিন টাইম
- দোয়া ও আযকার
অসুস্থতার সময় ও পরে
জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া বা দাঁত ওঠার সময় শিশুর ক্ষুধা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। তখন শিশুর পছন্দের নরম খাবার ও বেশি তরলই বেশি জরুরি।
- অসুস্থ অবস্থায় তরল বাড়ান: বুকের দুধ, খাবার স্যালাইন (ORS), পানি, স্যুপ ও ভাতের মাড়
- বুকের দুধ বেশি বেশি দিন। শিশু চাইলে ঘন ঘন
- পছন্দের নরম খাবার অল্প অল্প করে দিন, জোর নয়
- সুস্থ হওয়ার পর কয়েকদিন ধরে ক্ষুধা ফিরে আসে। এ সময় পুষ্টিকর খাবার ঘন ঘন ও অল্প অল্প করে দিন, যাতে ওজন ফিরে আসে
- বমি, ডায়রিয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ঝিমানো দেখলে চিকিৎসকের কাছে যান
- বেবি থার্মোমিটার
- নেজাল অ্যাসপিরেটর
- মেডিসিন ড্রপার ও চামচ
- বেবি টিথার
- ফিঙ্গার ও গাম টুথব্রাশ
- বেবি টুথব্রাশ
- বেবি হেলথকেয়ার
- সিপি কাপ
- স্ট্র কাপ
- বেবি ওয়াটার বোতল
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
বেশিরভাগ শিশুর খেতে না চাওয়া স্বাভাবিক। তবে নিচের লক্ষণগুলোর কোনোটি থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা পুষ্টিবিদের সাথে কথা বলুন। এটি রোগ নির্ণয় নয়, সাধারণ সতর্কতা।
| লক্ষণ | কেন গুরুত্বপূর্ণ |
|---|---|
| ওজন কমছে বা প্রত্যাশামতো বাড়ছে না | সবচেয়ে বড় সতর্ক-চিহ্ন। দেরি করবেন না |
| খাওয়ার সময় বারবার বমি, গা গুলানো বা মুখে খাবার ঢুকলেই বিষম খাওয়া | গিলতে বা হজমে সমস্যা থাকতে পারে |
| খাওয়ার সময় তীব্র কান্না, ভয় বা প্রতিবার খাওয়ার সময় অশান্তি | খাওয়ার প্রতি গভীর ভয় বা অন্য কারণ |
| খুব কম ধরনের খাবারেই সীমাবদ্ধ (যেমন ১০ থেকে ১৫টির কম) বা পুরো একটি খাদ্যগোষ্ঠী বাদ | খাদ্য-ঘাটতির ঝুঁকি, বিশেষ কিছু খাওয়ার সমস্যার (যেমন ARFID) সম্ভাবনা |
| ফ্যাকাসে ত্বক, ক্লান্তি, খিটখিটে ভাব, ঘন ঘন অসুস্থতা | রক্তশূন্যতা বা পুষ্টির ঘাটতির সম্ভাবনা |
| দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটব্যথা, পাতলা পায়খানা বা রক্ত | পরীক্ষা দরকার হতে পারে |
| খাওয়ার পর ফুসকুড়ি, মুখ-ঠোঁট ফোলা বা শ্বাসকষ্ট | অ্যালার্জি। শ্বাসকষ্ট বা মুখ-গলা ফুলে গেলে সাথে সাথে হাসপাতালে |
| শিশুর কথা বলা, চলাফেরা বা আচরণে অন্যান্য উদ্বেগ | বিকাশ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো |
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অভিভাবকদের জন্য আছে স্পেশাল নিডস প্যারেন্টিং বই। শিশুর বিকাশ নিয়ে পড়ুন শিশুর বিকাশ ও দক্ষতা গাইড।
"ক্ষুধা বাড়ানোর টনিক" ও সাপ্লিমেন্ট নিয়ে সাবধান
- দোকানের "ক্ষুধা বাড়ানোর সিরাপ" বা টনিক নিজে থেকে দেবেন না। কারণ অনেক সময় সমস্যার আসল কারণ (রক্তশূন্যতা, কৃমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যালার্জি) আলাদা, আর সিরাপে তা সারে না
- বেশিরভাগ শিশু সীমিত খাবার খেয়েও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। সাপ্লিমেন্ট লাগবে কি না, তা চিকিৎসক পরীক্ষা করে বলবেন
- অতিরিক্ত দুধ ও জুস পেট ভরিয়ে ক্ষুধা মেরে দেয়। দুধের পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক রাখুন
- লবণ, চিনি, মধু (এক বছরের নিচে একদম নয়) ও প্যাকেটজাত জাঙ্ক ফুড দিয়ে ক্ষুধা মেটানোর চেষ্টা করবেন না
স্কুলের টিফিন ও মায়ের নিজের যত্ন
স্কুলগামী শিশুর টিফিন আকর্ষণীয় ও সহজে খাওয়ার মতো করুন: ছোট ছোট টুকরো, বিভিন্ন রং, একটি পরিচিত পছন্দের খাবার। টিফিন বক্স ও পানির বোতল প্রতিদিন পরিষ্কার করুন। আর শিশুর খাওয়া নিয়ে মায়ের দুশ্চিন্তাও স্বাস্থ্যের বিষয়। নিজের খাওয়া, ঘুম ও বিশ্রামের দিকেও খেয়াল রাখুন, কারণ শান্ত মা-ই শান্তভাবে খাওয়াতে পারেন।
- টিফিন ও লাঞ্চ বক্স
- পানির বোতল
- থার্মোস ও ফ্লাস্ক
- স্কুল ব্যাগ
- মম কেয়ার
- নিউট্রিশন ও ওয়েলনেস
- প্যারেন্টিং বই
- মা ও শিশুর যত্নের বই
- শিশুর বিকাশ
৫টি সাধারণ ভুল, যা এড়িয়ে চলবেন
- কান্না মানেই ক্ষুধা ভাবা। শিশু ঘুম, গরম, ভেজা ডায়াপার বা আদরের জন্যও কাঁদে। আগে অন্য কারণ দেখুন।
- এক বেলা না খেলেই আতঙ্কিত হওয়া। দিনের নয়, সপ্তাহের গড় দেখুন এবং ওজন ও সক্রিয়তায় নজর রাখুন।
- ঘণ্টায় ঘণ্টায় কিছু না কিছু খাওয়ানো। এতে মূল খাবারের সময় ক্ষুধা থাকে না। নির্দিষ্ট রুটিন ধরুন।
- জোর, ধমক ও ঘুষ। সাময়িক এক-দুই লোকমা হয়তো যায়, কিন্তু খাবারের প্রতি ভয় ও অনীহা বাড়ে।
- স্ক্রিন দেখিয়ে খাওয়ানো। এতে শিশু কতটুকু খেল ও পেট ভরল কি না, দুটোই বোঝা যায় না, আর স্ক্রিন ছাড়া খেতে না চাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়।
সব এক নজরে: কোন প্রয়োজনে কোথায় দেখবেন
- বেবি ফিডিং
- বেবি ফুড
- কাপ ও হাইড্রেশন
- ফিডিং হাইজিন
- মিল্ক ও ফর্মুলা
- ব্রেস্টফিডিং
- হেলথ ও সেফটি
- প্যাসিফায়ার ও টিথার
- টয়েজ ও অ্যাক্টিভিটি
- বই
- ইসলামিক বই
- নবজাতক ও শিশুর যত্নের বই
- প্যারেন্টিং বই
- লার্নিং ও স্টেশনারি
আরও পড়ুন ও কাজের টুল
- পুষ্টি ও খাওয়ানোর গাইড
- শিশুর বিকাশ ও দক্ষতা
- নবজাতকের যত্ন
- প্যারেন্টিং গাইড
- গ্রোথ ট্র্যাকার
- মাইলস্টোন ট্র্যাকার
- বেবি শপিং চেকলিস্ট
- প্যারেন্টিং কুইজ
- হেল্প সেন্টার ও FAQ
- ডেলিভারি ও শিপিং
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
বাচ্চা খেতে চায় না কেন?
সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলো বয়সের স্বাভাবিক পর্যায় (এক বছরের পর ক্ষুধা কমে, নতুন খাবারে ভয়), অসময়ে স্ন্যাক বা জুস, জোর করে খাওয়ানো, স্ক্রিন, একঘেয়ে খাবার, দাঁত ওঠা, কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তশূন্যতা ও কৃমি। ওজন ঠিক থাকলে ও শিশু সক্রিয় হলে সাধারণত চিন্তার কিছু নেই।
বাচ্চা একদমই না খেলে কী করব?
জোর না করে কিছুক্ষণ পর শান্তভাবে খাবার তুলে রাখুন। পরের নির্দিষ্ট সময়ে আবার দিন। ঘণ্টায় ঘণ্টায় খাওয়ানো বা জুস-বিস্কুট দিয়ে পেট ভরানো যাবে না। কয়েকদিন ধরে খুবই কম খেলে, ওজন কমলে বা জ্বর-বমি থাকলে চিকিৎসক দেখান।
নতুন খাবার শিশু না নিলে কতবার চেষ্টা করব?
অনেক শিশুর ক্ষেত্রে একটা নতুন খাবার গ্রহণ করতে ১০ থেকে ১৫ বার বা তারও বেশি চেষ্টা লাগে। প্রতিবার অল্প করে, চাপ ছাড়া, পরিচিত খাবারের পাশে দিন। শিশু ছুঁয়ে বা গন্ধ নিলেও সেটা অগ্রগতি।
খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইল দেখালে কী ক্ষতি?
স্ক্রিনে মনোযোগ থাকলে শিশু কতটুকু খাচ্ছে ও পেট ভরেছে কি না বুঝতে পারে না, আর স্ক্রিন ছাড়া খেতে না চাওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। WHO-র নির্দেশনায় খাওয়ার সময় বিভ্রান্তি কমিয়ে শিশুর সাথে কথা বলে ও চোখে চোখ রেখে খাওয়ানোর কথা বলা হয়েছে।
শিশু কি বারবার একই খাবার চাইলে দেওয়া ঠিক?
কিছুদিনের "ফুড জ্যাগ" স্বাভাবিক। তবে তার পাশে অন্য খাবারও অল্প করে রাখুন, জোর না করে। কিছুদিনের মধ্যে পছন্দ বদলে যায়। পুরো খাদ্য-গোষ্ঠী বাদ পড়লে বা খুব কম খাবারে আটকে গেলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
শিশুর কৃমি আছে কি না কীভাবে বুঝব?
পেট ফোলা, পায়ুপথে চুলকানি, রাতে দাঁত কিড়মিড় বা ওজন না বাড়া লক্ষণ হতে পারে, কিন্তু অন্য কারণেও এমন হয়। সন্দেহ হলে চিকিৎসক দেখান এবং তাঁর পরামর্শ বা জাতীয় কর্মসূচির নির্দেশমতো ওষুধ দিন। হাত ধোয়া, নখ ছোট রাখা, নিরাপদ পানি ও খালি পায়ে না হাঁটা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে কি রুটিন করে খাওয়াতে হবে?
না। এই বয়সে শিশুর চাহিদামতো বুকের দুধ দেওয়াই ভালো। ক্ষুধার সংকেত দেখুন: মুখ খোলা, হাত চোষা, ঠোঁট নাড়ানো। সঠিক দুধ পাচ্ছে কি না বোঝার জন্য ভেজা ডায়াপারের সংখ্যা ও ওজন বৃদ্ধি দেখুন, আর উদ্বেগে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
শিশুর খাওয়ার সময় আনন্দময় করার সব সরঞ্জাম এক জায়গায়
বেবি মিলটাইম দেখুনবি.দ্র.: এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। শিশুর ওজন, খাওয়া, অ্যালার্জি, রক্তশূন্যতা, কৃমি বা কোনো ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট নিয়ে সিদ্ধান্তের আগে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞ বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। এই পোস্টে উল্লিখিত কোনো পণ্য শিশুর ক্ষুধা বাড়ানো বা খাওয়ার সমস্যা সমাধানের নিশ্চয়তা দেয় না। শ্বাসকষ্ট, মুখ-গলা ফোলা বা অস্বাভাবিক ঝিমানো দেখলে সাথে সাথে হাসপাতালে যান।