শীত এলেই বাচ্চার গাল ফেটে যায়, হাত-পা খসখসে হয়, ঠোঁট শুকিয়ে ফাটে। দোকানে গেলে সামনে সারি সারি লোশন, ক্রিম, তেল, পাউডার ও শ্যাম্পু। কোনটা নেবেন? আর সারা দেশে যে সরিষার তেল মালিশ চলে, তা কি সত্যিই নিরাপদ? এই গাইডে সহজ ভাষায় পাবেন কোন পণ্য কখন লাগে, লেবেলে কী দেখবেন, কী এড়াবেন, আর কীভাবে ব্যবহার করলে পণ্যের পুরো উপকার পাবেন।
এক নজরে উত্তর: শীতে শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো রুটিন সহজ: কুসুম গরম পানিতে ছোট গোসল, নরমভাবে মুছে, গোসলের তিন মিনিটের মধ্যে সুগন্ধিমুক্ত ঘন ক্রিম বা মলম। শীতে পাতলা লোশনের চেয়ে ক্রিম বা মলম বেশি কাজ করে। শ্যাম্পু হবে মৃদু ও সুগন্ধিমুক্ত। তেল ব্যবহার করলে হালকা তেল, আগে প্যাচ টেস্ট করে, আর নবজাতকের ত্বকে সরিষার তেল নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। একসাথে অনেক পণ্য নয়, কম কিন্তু ঠিক পণ্যই ভালো।
শীতে শিশুর ত্বক কেন বেশি শুকায়?
শিশুর ত্বক বড়দের চেয়ে পাতলা, তাই পানি দ্রুত হারায়। শীতে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে, ঘরের ভেতরও শুষ্ক হয়। এর সাথে গরম পানিতে লম্বা গোসল, কড়া সাবান, সুগন্ধিযুক্ত পণ্য ও উলের কাপড় ত্বকের সুরক্ষা-স্তর আরও দুর্বল করে। তখন গাল ও ঠোঁট ফাটে, চুলকায়, লালচে ছোপ ও খসখসে দাগ দেখা দেয়। যাদের পরিবারে একজিমা বা অ্যালার্জি আছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।
৫ ধাপের সহজ রুটিন: "সোক অ্যান্ড সিল"
শিশু চিকিৎসকরা শীতের শুকনো ত্বকের জন্য একটি সহজ পদ্ধতি বলেন: ভিজিয়ে নিন, তারপর আটকে দিন।
- ছোট গোসল। কুসুম গরম পানিতে ৫ থেকে ১০ মিনিট। গরম পানি ও লম্বা সময় ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কেড়ে নেয়।
- মৃদু ক্লিনজার, কম পরিমাণে। শুধু ময়লা জায়গায় (গলা, বগল, ভাঁজ, ডায়াপার এলাকা) দিন। পুরো শরীরে বারবার সাবান নয়।
- ঘষে নয়, চেপে মুছুন। নরম তোয়ালে বা হুডেড তোয়ালে দিয়ে আলতো করে। ত্বক সামান্য ভেজা থাকুক।
- তিন মিনিটের মধ্যে ক্রিম বা মলম। ত্বক ভেজা থাকতে থাকতেই পুরো শরীরে পাতলা নয়, ভালো করে মেখে দিন। এতে আর্দ্রতা আটকে থাকে।
- দিনে অন্তত দুবার। গোসলের পর ও ঘুমের আগে। শুকনো জায়গায় (গাল, হাত-পা, কনুই-হাঁটু) প্রয়োজনে আরও বেশি বার।
প্যাচ টেস্ট: নতুন কোনো পণ্য সারা শরীরে লাগানোর আগে কনুইয়ের ভেতর বা কানের পেছনে অল্প লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা দেখুন। লালচে ভাব, ফুসকুড়ি বা চুলকানি হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
লোশন, ক্রিম, মলম, না তেল? কোনটা কখন
পার্থক্যটা মূলত পানি ও তেলের অনুপাতে। যত বেশি তেলের ভাগ, তত বেশি আর্দ্রতা আটকে রাখে, কিন্তু আঠালো লাগে।
| ধরন | কেমন | কখন ভালো | সীমাবদ্ধতা |
|---|---|---|---|
| লোশন | পাতলা, বেশি পানি, সহজে ছড়ায় | হালকা শুষ্কতা, গরম ঘর বা দিনের বেলা | শীতে ফাটা বা খসখসে ত্বকে যথেষ্ট নাও হতে পারে |
| ক্রিম | ঘন, লোশনের চেয়ে বেশি তেল | শীতে রোজকার ময়েশ্চারাইজার হিসেবে সবচেয়ে ব্যবহারিক | কিছু শিশুর ঘন অনুভূতি পছন্দ হয় না |
| মলম (পেট্রোলিয়াম জেলি ও অনুরূপ) | সবচেয়ে ঘন ও তেলযুক্ত | খুব শুকনো বা ফাটা জায়গা, ঠোঁট, গাল, ডায়াপার এলাকার সুরক্ষা | আঠালো, কাপড়ে দাগ পড়ে। পাতলা স্তরে দিন |
| তেল | তরল চর্বিজাতীয় | মালিশ ও আরামের জন্য, বা গোসলের পর অল্প ভেজা ত্বকে সিল করতে | সব তেল নিরাপদ নয়। নিচে "তেল নিয়ে সৎ কথা" দেখুন |
- জার বা টিউবের ঘন পণ্য সাধারণত পাম্প বোতলের পাতলা পণ্যের চেয়ে শীতে বেশি কাজ করে
- সবকিছু একসাথে লেয়ার করার (লোশন, তেল, ক্রিম, পাউডার) দরকার নেই। একটি ভালো ক্রিম বা মলমই যথেষ্ট হতে পারে
- পাউডার মুখের কাছে ঝাড়বেন না, কণা শ্বাসের সাথে ভেতরে যেতে পারে। শুধু হাতে নিয়ে শরীরের নিচের অংশে লাগান
- বেবি স্কিনকেয়ার
- বেবি লোশন ও ময়েশ্চারাইজার
- বেবি স্কিন ক্রিম
- বেবি ফেস কেয়ার
- সেনসিটিভ স্কিন কেয়ার
- বেবি বডি অয়েল
- বেবি পাউডার
- পাউডার পাফ
আমাদের সংগ্রহের উদাহরণ: Sebamed Baby Extra Soft Cream (৫০ মি.লি.), (২০০ মি.লি.), Protective Facial Cream (১০০ মি.লি.) ও Protective Facial Cream। যেকোনো পণ্য কেনার আগে প্যাকেটের উপাদান ও বয়সসীমা দেখে নিন।
লেবেলে কী দেখবেন, কী এড়াবেন?
বিজ্ঞাপনের বড় বড় কথার চেয়ে পেছনের উপাদান-তালিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্যাকেটে উপাদান লেখা না থাকলে সেই পণ্য শিশুর ত্বকে ব্যবহার করবেন না।
যা খুঁজবেন
- "সুগন্ধিমুক্ত" (fragrance-free)। "Parfum" বা "Fragrance" লেখা থাকা মানে সুগন্ধি আছে
- ময়েশ্চারাইজিং উপাদান: গ্লিসারিন, শিয়া বাটার, সিরামাইড, পেট্রোলাটাম, ডাইমেথিকন, ওটমিল
- শিশুর জন্য তৈরি, বয়সসীমা পরিষ্কার লেখা
- মেয়াদ ও উৎপাদনের তারিখ, সিল ঠিক আছে কি না
- মৃদু ক্লিনজার: সাবান-মুক্ত বা মৃদু, "টিয়ার-ফ্রি" শ্যাম্পু
যা এড়ানো ভালো
- সুগন্ধি ও রং, যা ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জি বাড়াতে পারে
- অ্যালকোহল (alcohol denat. বা SD alcohol), শুষ্কতা বাড়ায়
- তীব্র এসেনশিয়াল অয়েল ও মেন্থল, কর্পূর, পুদিনা ও ইউক্যালিপটাস-জাতীয় উপাদান ছোট শিশুর ত্বক ও শ্বাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে
- কড়া সাবান ও তীব্র ফেনা
- বড়দের জন্য তৈরি পণ্য ও অজানা উৎসের, লেবেলহীন পণ্য
"পিএইচ-ব্যালান্সড", "ডার্মাটোলজিক্যালি টেস্টেড" ও "প্রাকৃতিক" দেখে ভুলবেন না। এই শব্দগুলো প্যাকেটে অনেকেই লিখে দিতে পারে। আসল বিচার হলো উপাদান তালিকা ও আপনার শিশুর ত্বক কেমন সাড়া দিচ্ছে। "প্রাকৃতিক" মানেই নিরাপদ নয়।
কাপড় ধোয়ার ডিটারজেন্টও গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভব হলে শিশুর কাপড় সুগন্ধিমুক্ত ও রংমুক্ত ডিটারজেন্টে ধুয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন এবং ফ্যাব্রিক সফটেনার এড়ান, কারণ এর অবশিষ্টাংশ সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা দিতে পারে। সম্পূর্ণ বাছাইয়ের তালিকা বানাতে ব্যবহার করুন বেবি শপিং চেকলিস্ট।
তেল নিয়ে সৎ কথা: সরিষা, নারকেল, অলিভ ও অন্যান্য
আমাদের দেশে শিশুকে তেল মালিশ বহুদিনের অভ্যাস, বিশেষ করে শীতে। মালিশ আরাম দেয়, মা-শিশুর বন্ধন গড়ে, আর শিশু ঘুমায় ভালো। প্রশ্নটা মালিশ করা বা না করার নয়, কোন তেল ও কীভাবে।
| তেল | যা জানা আছে | পরামর্শ |
|---|---|---|
| সরিষার তেল | দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে প্রচলিত। বাংলাদেশে নবজাতকদের নিয়ে করা গবেষণায় গবেষকরা বলেছেন, এটি ত্বকের সুরক্ষা-স্তরের সেরে ওঠা দেরি করতে ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে | নবজাতক ও খুব ছোট শিশুর ত্বকে ব্যবহারের আগে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ব্যবহার করলে নতুন, মৃদু মালিশ ও প্যাচ টেস্ট। জ্বালা, লালচে ভাব বা ফুসকুড়ি হলে বন্ধ করুন |
| সূর্যমুখীর তেল (উচ্চ লিনোলেইক) | ঢাকার হাসপাতালে অপরিণত শিশুদের ওপর হওয়া পরীক্ষায় সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করেছে বলে দেখা গেছে। তবে এটা হাসপাতালে নজরদারিতে, সব শিশুর ঘরোয়া ব্যবহারের নির্দেশ নয় | একটি তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বিশুদ্ধ, শিশুর ব্যবহার উপযোগী পণ্য নিন এবং চিকিৎসকের মত নিন |
| নারকেল তেল | বাংলাদেশে প্রচলিত, হালকা মালিশে ব্যবহার হয়। শীতে জমে যায় | বিশুদ্ধ ও খাঁটি তেল, প্যাচ টেস্ট করে। অ্যালার্জি বা জ্বালা হলে বন্ধ করুন |
| অলিভ ও বাদাম তেল | ইউরোপের স্বাস্থ্য সংস্থা (NHS) শিশুর মাথার ত্বকের ক্র্যাডল ক্যাপে অলিভ তেল না দিতে বলে, আর চিনাবাদামের তেলে অ্যালার্জির ঝুঁকির কারণে এড়াতে বলে | পরিবারে বাদাম বা খাবারের অ্যালার্জি থাকলে সাবধান। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন |
| রান্নার তেল বা অজানা তেল | বিশুদ্ধতা ও উপাদান অনিশ্চিত | শিশুর জন্য নির্ধারিত, উপাদান লেখা পণ্য ব্যবহার করুন |
যেভাবে তেল মালিশ করবেন (সবচেয়ে নিরাপদ নিয়ম)
- মালিশ আলতো ও ধীরে হোক। জোরে ঘষা বা টেপাটিপি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে
- ঘর গরম রাখুন, তেল সামান্য গরম করে (হাতে অল্প নিয়ে) মাখুন। গরম তেল সরাসরি ঢালবেন না
- কাটা, ফাটা, ঘা বা পুঁজযুক্ত ত্বকে তেল লাগাবেন না
- মালিশের পর গোসলের সময় বা আগে অতিরিক্ত তেল মুছে নিন
- মুখে, নাকের কাছে ও চোখে তেল লাগাবেন না। মুখ ও নাকে তেল ঢুকলে শ্বাসের ঝুঁকি হতে পারে
- নবজাতকের নাভির কাছে তেল দেবেন না, যতক্ষণ না চিকিৎসক বলেন
- তেল মেখে শিশুকে সরাসরি রোদে বা ঠান্ডায় রাখবেন না
গোসলের পর কী? তেল মালিশ করলেও শীতে গোসলের পর ঘন ক্রিম বা মলম আর্দ্রতা আটকে রাখতে বেশি কার্যকর। তেল ও ক্রিমের কোনটা, তা নির্ভর করে আপনার শিশুর ত্বকের ওপর। একই সময়ে একসাথে অনেকগুলো পণ্য দিলে কোনটা থেকে সমস্যা হচ্ছে বোঝা কঠিন হয়।
শ্যাম্পু ও চুলের যত্ন
- শিশুর জন্য মৃদু, "টিয়ার-ফ্রি" ও সুগন্ধিমুক্ত শ্যাম্পু বেছে নিন। বড়দের শ্যাম্পু ও কড়া ফেনার পণ্য নয়
- সপ্তাহে দুই-তিনবার শ্যাম্পু যথেষ্ট। প্রতিদিন ধুলে মাথার ত্বক আরও শুকিয়ে যেতে পারে
- অল্প শ্যাম্পু, চোখ এড়িয়ে লাগান এবং ভালো করে ধুয়ে ফেলুন
- কন্ডিশনার ঐচ্ছিক। ঘন, কোঁকড়া বা জট পাকানো চুলে সহায়ক হতে পারে
- ভেজা চুল মুছে ঠান্ডা বাতাসে বাইরে নেবেন না, আগে টুপি বা নরম তোয়ালে দিয়ে ঢেকে রাখুন
ক্র্যাডল ক্যাপ: মাথার ত্বকের হলদে খোসা
অনেক নবজাতকের মাথায় তেলতেলে হলদে বা সাদা খোসা জমে, একে ক্র্যাডল ক্যাপ বলে। এটা সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং কয়েক মাসের মধ্যে নিজে থেকেই কমে আসে। NHS-এর পরামর্শ অনুযায়ী মাথার ত্বকে মৃদু ময়েশ্চারাইজার মালিশ করে খোসা নরম করুন, নরম ব্রাশ দিয়ে আলতো করে তুলে ফেলুন, তারপর মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। খোসা টেনে তুলবেন না। লালচে ভাব, পুঁজ বা চুলকানি থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান।
- বেবি শ্যাম্পু
- বেবি কন্ডিশনার
- বেবি হেয়ার কেয়ার সেট
- বেবি হেয়ার অয়েল
- চিরুনি ও ব্রাশ
- শাওয়ার ক্যাপ ও মগ
- বেবি সাবান
- বেবি বডি ওয়াশ
শরীরের অংশ অনুযায়ী কোন পণ্য?
| জায়গা | সাধারণ সমস্যা | কী ব্যবহার করবেন |
|---|---|---|
| গাল ও মুখ | ঠান্ডা বাতাসে ফাটা, লালা ও খাবারে জ্বালা | সুগন্ধিমুক্ত ফেস ক্রিম বা মলম। বাইরে যাওয়ার আগে পাতলা স্তর। খাওয়ার পর নরম কাপড়ে চেপে মুছুন |
| ঠোঁট | শুষ্কতা, ফাটা | সুগন্ধিমুক্ত লিপ বাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি, লেবেল ও বয়সসীমা দেখে |
| শরীর, হাত-পা | খসখসে, শুকনো দাগ, চুলকানি | গোসলের পর ঘন ক্রিম বা মলম, দিনে অন্তত দুবার। রাতে নরম সুতির মোজা ও মিটেন |
| কনুই, হাঁটু ও ভাঁজ | খুব শুকনো, চামড়া উঠে যাওয়া | মলম বা ঘন ক্রিম। ভাঁজে ঘাম জমলে শুকনো রাখুন |
| মাথার ত্বক | ক্র্যাডল ক্যাপ, শুষ্কতা | মৃদু শ্যাম্পু, প্রয়োজনে হালকা ময়েশ্চারাইজার ও নরম ব্রাশ |
| ডায়াপার এলাকা | ভেজা ভাব, র্যাশ | দ্রুত বদল, সুগন্ধি ও অ্যালকোহলমুক্ত ওয়াইপস, পাতলা স্তরে র্যাশ ক্রিম বা মলম, মাঝেমধ্যে ডায়াপার ছাড়া খোলা রাখা |
| রোদে বের হলে | রোদ পোড়া | ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য সানস্ক্রিন নয়, ছায়া ও ঢাকা পোশাক। ছয় মাসের পর বয়সোপযোগী সানস্ক্রিন নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন |
- র্যাশ কেয়ার
- ডায়াপার র্যাশ ক্রিম
- বেবি ওয়াইপস
- বেবি সান কেয়ার
- টুপি ও মিটেন
- নিউবর্ন ডায়াপার
- ডায়াপার প্যান্ট
- চেঞ্জিং ম্যাট
বয়স অনুযায়ী কীভাবে বদলাবেন?
| বয়স | কী মনে রাখবেন |
|---|---|
| জন্মের প্রথম কয়েক সপ্তাহ | ত্বক খুব কোমল। কম পণ্যই ভালো। জন্মের পর প্রথম গোসল অন্তত ২৪ ঘণ্টা পর, WHO-র পরামর্শ অনুযায়ী। নতুন কোনো তেল বা ক্রিম শুরুর আগে চিকিৎসকের মত নিন। তোয়ালে মুছে নরমভাবে ত্বক শুকান |
| ১ থেকে ৬ মাস | সুগন্ধিমুক্ত ক্রিম বা মলম রোজ, সপ্তাহে কয়েকবার শ্যাম্পু। সানস্ক্রিন নয়, ছায়ায় রাখুন |
| ৬ মাস থেকে ১ বছর | সলিড খাবারের সময় মুখের চারপাশে খাবারের জ্বালা হতে পারে। খাওয়ার পর নরমভাবে পরিষ্কার করে ক্রিম দিন। বাইরে বেশি সময় থাকলে সানস্ক্রিন নিয়ে ভাবুন |
| ১ থেকে ৩ বছর | নিজে ঘষাঘষি ও চুলকানি বেড়ে যায়। নখ ছোট রাখুন। হাঁটাচলায় কনুই-হাঁটুর যত্ন নিন |
| স্কুলগামী | ঘন ঘন হাত ধোয়ায় হাত শুকিয়ে যায়। হাতে ক্রিম, ঠোঁটে লিপ বাম ব্যাগে রাখুন |
ঘরের পরিবেশও ত্বকের যত্নের অংশ
- ঘরের আর্দ্রতা। শুকনো ঘরে ঠান্ডা কুয়াশার হিউমিডিফায়ার সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন পানি বদলে পরিষ্কার না করলে জীবাণু জমে
- নরম সুতির পোশাক ত্বকের সাথে লাগান। উল ও খসখসে কাপড় সরাসরি ত্বকে নয়
- ধোঁয়া এড়ান। কয়েল, ধূপ ও চুলার ধোঁয়া ত্বক ও শ্বাস দুটোর জন্যই ক্ষতিকর
- ঘরের তাপমাত্রা: খুব গরম হিটার ত্বক শুকিয়ে দেয়। মাঝারি উষ্ণতা রাখুন
- কাপড় ধোয়া: সুগন্ধি ও রংমুক্ত ডিটারজেন্ট, ভালো করে ধোয়া, ফ্যাব্রিক সফটেনার ছাড়া
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
সাধারণ শুকনো ত্বক নিয়মিত ক্রিমে ঠিক হয়। কিন্তু একজিমা বা সংক্রমণ হলে শুধু ক্রিমে হবে না।
- লালচে, ফোলা, ব্যথাযুক্ত বা খুব চুলকানিযুক্ত ছোপ, যা ক্রিমে কমছে না
- চামড়া ফেটে রক্ত পড়ছে, পুঁজ, হলুদ ক্রাস্ট বা পানি ঝরছে
- চুলকানির কারণে শিশু ঘুমাতে পারছে না
- জ্বরের সাথে র্যাশ
- নতুন পণ্য লাগানোর পর হঠাৎ ফুসকুড়ি, ফোলা বা শ্বাসকষ্ট, এটা জরুরি, সাথে সাথে হাসপাতালে যান
- পরিবারে একজিমা বা অ্যালার্জি থাকলে এবং শিশুর বারবার ফুসকুড়ি দেখা দিলে
নিজে স্টেরয়েড ক্রিম লাগাবেন না। দোকানে বা আত্মীয়ের পরামর্শে স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম শিশুর ত্বকে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যেকোনো ওষুধযুক্ত ক্রিম শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে।
শিশুর সার্বিক বিকাশ ও ওজন নজরে রাখতে ব্যবহার করুন বেবি গ্রোথ ট্র্যাকার। অন্যান্য শীতকালীন যত্নের জন্য পড়ুন আমাদের নবজাতকের যত্ন গাইড।
মায়েরও যত্ন দরকার
মায়েরা অনেক সময় শিশুর ত্বকের কথা ভাবতে গিয়ে নিজের কথা ভুলে যান। শীতে মায়ের হাত, ঠোঁট ও ত্বকও শুকায়, আর বারবার হাত ধোয়ায় তা আরও বাড়ে। বুকের দুধ খাওয়ালে বা গর্ভাবস্থায় কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে উপাদান দেখে নিন ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- মম স্কিনকেয়ার
- ময়েশ্চারাইজার ও সিরাম
- ফেস ও বডি অয়েল
- আই, লিপ ও সানকেয়ার
- হাত ও পায়ের যত্ন
- স্ট্রেচ মার্ক কেয়ার
- মম কেয়ার
৫টি সাধারণ ভুল, যা এড়িয়ে চলবেন
- গরম পানিতে লম্বা গোসল। আরাম লাগলেও ত্বক শুকিয়ে যায়। ছোট ও কুসুম গরম পানি।
- একসাথে অনেক পণ্য মাখা। লোশন, তেল, ক্রিম ও পাউডার একসাথে দিলে সমস্যার কারণ বোঝা যায় না। সহজ রুটিন রাখুন।
- সুগন্ধিযুক্ত পণ্য বেছে নেওয়া। ভালো গন্ধ মানেই ভালো ত্বক নয়। সুগন্ধিমুক্ত বেছে নিন।
- গোসলের পর দেরিতে ক্রিম দেওয়া। ত্বক শুকিয়ে গেলে আর্দ্রতা আটকে রাখা কঠিন। তিন মিনিটের নিয়ম মানুন।
- ছোট শিশুকে অপরিচিত বা বড়দের পণ্য ও স্টেরয়েড ক্রিম দেওয়া। শিশুর জন্য তৈরি ও লেবেলযুক্ত পণ্য নিন, ওষুধ শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে।
সব এক নজরে: কোন প্রয়োজনে কোথায় দেখবেন
- বাথ ও স্কিন
- বেবি স্কিনকেয়ার
- বেবি স্কিনকেয়ার সেট
- বেবি হেলথকেয়ার
- ডায়াপারিং ও পটি
- নিউবর্ন ও নার্সারি
- বেবি ব্ল্যাংকেট ও স্লিপ
- হেলথ ও সেফটি
- নবজাতক ও শিশুর যত্নের বই
- মা ও শিশুর যত্নের বই
- মম কেয়ার
- বেবি গিয়ার
আরও পড়ুন ও কাজের টুল
- নবজাতকের যত্ন
- শিশুর বিকাশ ও দক্ষতা
- প্যারেন্টিং গাইড
- বেবি শপিং চেকলিস্ট
- গ্রোথ ট্র্যাকার
- হেল্প সেন্টার ও FAQ
- ডেলিভারি ও শিপিং
- রিটার্ন ও রিফান্ড
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
শীতে শিশুর জন্য লোশন ভালো, না ক্রিম?
শীতে সাধারণত ক্রিম বা মলম বেশি কার্যকর, কারণ এতে তেলের ভাগ বেশি ও আর্দ্রতা বেশি সময় ধরে রাখে। হালকা শুষ্কতায় বা গরম ঘরে লোশন চলতে পারে। যেটাই নিন, সুগন্ধিমুক্ত ও শিশুর জন্য তৈরি পণ্য নিন এবং গোসলের তিন মিনিটের মধ্যে লাগান।
শিশুকে সরিষার তেল মালিশ করা কি ক্ষতিকর?
বাংলাদেশে করা গবেষণায় গবেষকরা বলেছেন, সরিষার তেল নবজাতকের ত্বকের সুরক্ষা-স্তর সেরে ওঠা দেরি করতে ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই নবজাতক ও ছোট শিশুর ক্ষেত্রে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। বিকল্প হিসেবে সূর্যমুখী তেল বা চিকিৎসকের পরামর্শমতো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়। যে তেলই ব্যবহার করুন, আগে প্যাচ টেস্ট ও জ্বালা হলে বন্ধ।
শিশুকে প্রতিদিন কি শ্যাম্পু করানো দরকার?
না। সপ্তাহে দুই-তিনবার মৃদু ও সুগন্ধিমুক্ত শিশু শ্যাম্পু যথেষ্ট। প্রতিদিন ধুলে মাথার ত্বক শুকিয়ে যেতে পারে। ক্র্যাডল ক্যাপ থাকলে মৃদু ময়েশ্চারাইজার ও নরম ব্রাশ দিয়ে খোসা নরম করে তারপর ধুয়ে নিন।
বেবি পাউডার কি শীতে দরকার?
দরকার নেই। বরং ত্বক শুকিয়ে যেতে পারে, আর পাউডারের কণা শ্বাসের সাথে ঢুকতে পারে। ব্যবহার করলে মুখের কাছে ঝাড়বেন না, হাতে নিয়ে শরীরের নিচের অংশে লাগান। ডায়াপার র্যাশে পাউডারের বদলে বারিয়ার ক্রিম ভালো।
শিশুর ঠোঁট ফাটলে কী লাগাব?
সুগন্ধিমুক্ত লিপ বাম বা পেট্রোলিয়াম জেলির মতো মলম পাতলা করে লাগানো যায়, তবে প্যাকেটের বয়সসীমা দেখে নিন। খাওয়ার পর ঠোঁট নরম কাপড়ে চেপে মুছুন, ঘষবেন না। ঘা, রক্ত বা ক্রাস্ট হলে চিকিৎসক দেখান।
নতুন ক্রিম বা লোশন লাগানোর পর লালচে হলে কী করব?
ব্যবহার বন্ধ করে ত্বক কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে নিন। অল্প লালচে ভাব কয়েক ঘণ্টায় না কমলে, ফুসকুড়ি, ফোলা বা চুলকানি বাড়লে চিকিৎসকের কাছে যান। শ্বাসকষ্ট বা মুখ ফোলা হলে সাথে সাথে হাসপাতালে। পরের বার নতুন পণ্য আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন।
ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে কি সানস্ক্রিন লাগানো যায়?
সাধারণত না। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে রোদ থেকে ছায়ায়, টুপি ও ঢাকা পোশাকে রাখাই নিরাপদ। ছয় মাসের পর বাইরে বেশি সময় থাকলে বয়সোপযোগী সানস্ক্রিন নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শীতে শিশুর ত্বক ও চুলের যত্নের সব পণ্য এক জায়গায়
বেবি স্কিনকেয়ার দেখুনবি.দ্র.: এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। শিশুর ত্বকে একজিমা, সংক্রমণ, অ্যালার্জি বা কোনো ওষুধযুক্ত ক্রিম নিয়ে সিদ্ধান্তের আগে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞ বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এই পোস্টে উল্লিখিত কোনো পণ্য রোগ নিরাময় বা ত্বকের সমস্যা সারানোর নিশ্চয়তা দেয় না। নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে উপাদান তালিকা ও বয়সসীমা দেখে প্যাচ টেস্ট করুন।